তোলাবাজিকাণ্ড: এবার ইডির আতশকাচের নীচে ধৃত তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্ত, শুরু হচ্ছে আর্থিক তছরুপের তদন্ত

তোলাবাজিকাণ্ড: এবার ইডির আতশকাচের নীচে ধৃত তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্ত, শুরু হচ্ছে আর্থিক তছরুপের তদন্ত

বিধাননগরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা ধৃত তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্ত এবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) স্ক্যানারে। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা বিপুল অঙ্কের তোলাবাজির অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যেই প্রাথমিক অনুসন্ধান (Preliminary Enquiry) সেরে ফেলেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। প্রাথমিক তদন্তে সন্তোষজনক তথ্য মেলার পর, এবার সব্যসাচীর বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করতে চলেছে ইডি।

পুলিশের এফআইআর-এর ভিত্তিতে নথিপত্র সংগ্রহ

ইডি সূত্রের খবর, গত ৮ জুন বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ সব্যসাচী দত্তের বিরুদ্ধে যে এফআইআর (FIR) দায়ের করেছিল, তার ওপর ভিত্তি করেই প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন ইডি আধিকারিকরা। তবে আর্থিক তছরুপ প্রতিরোধ আইন (PMLA)-এর অধীনে ইডি সাধারণত যে ‘এনফোর্সমেন্ট কেস ইনফরমেশন রিপোর্ট’ (ECIR) বা আনুষ্ঠানিক এফআইআর দায়ের করে, তা এখনও প্রক্রিয়াধীন। আনুষ্ঠানিক মামলার রুজু করার আগে সমস্ত তথ্যপ্রমাণ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিপুল পরিমাণ সোনা ও রূপো উদ্ধার

এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা তোলার (তোলাবাজি) অভিযোগে চলতি মাসের ৮ তারিখে সব্যসাচী দত্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারির পর তাঁকে হেফাজতে নিয়ে তদন্তে নামতেই একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে।

  • রাজারহাটের ফ্ল্যাট ও লকার: সব্যসাচীর রাজারহাটের ফ্ল্যাট এবং ব্যাংকের লকারে তল্লাশি চালিয়ে তদন্তকারীরা প্রায় সাড়ে তিন কেজি সোনার সন্ধান পান।
  • ঘনিষ্ঠ নেত্রীর বাড়ি থেকে উদ্ধার: সব্যসাচীর জেরা থেকে সূত্র পেয়ে তাঁর ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেত্রী তথা নদিয়া জেলা পরিষদের সদস্য টিনা ভৌমিক সাহার পৈতৃক বাড়িতেও অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে আরও ৩ কেজি সোনা এবং দেড় কেজিরও বেশি রূপো উদ্ধার করা হয়।

তদন্তকারীদের দাবি: ব্যবসায়ীদের থেকে তোলাবাজির মাধ্যমে সংগৃহীত কালো টাকা নিরাপদ রাখতে তা দিয়ে সোনা কিনে রাখতেন এই প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা।

কোটি কোটি টাকার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ

শুধু সোনা বা রূপোই নয়, সব্যসাচী দত্তের বিপুল পরিমাণ আর্থিক লেনদেনের হদিসও পেয়েছে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে ইতিমধ্যে সব্যসাচী দত্ত এবং তাঁর স্ত্রী ইন্দ্রানী দত্তের মোট পাঁচটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ (বাজেয়াপ্ত) করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রের খবর, এই পাঁচটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, বিভিন্ন মেয়াদি আমানত (ফিক্সড ডিপোজিট) এবং নগদ অর্থ মিলিয়ে মোট ৩ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা মূল্যের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ টাকার উৎস এবং এর পেছনে কোনো সংগঠিত আর্থিক তছরুপের যোগসূত্র রয়েছে কি না, এবার মূলত সেই বিষয়েরই গভীরে যেতে চাইছে ইডি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.