স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যে আয়োজিত বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচটি ছিল চরম উত্তেজনাপূর্ণ ও শারীরিক শক্তিনির্ভর। তবে ফাইনাল শেষ হওয়ার দু’দিন পর এক নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি। ম্যাচের মধ্যে সতীর্থের ‘ভুয়ো চোট’ দেখিয়ে রেফারিকে বিভ্রান্ত করার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে আর্জেন্টিনা অধিনায়কের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটির বিবরণ ও ভিডিও বিশ্লেষণ
ঘটনাটি ঘটে ম্যাচের সেই মুহূর্তে, যখন আর্জেন্টিনার ফুটবলার এনজো ফার্নান্দেজকে লাল কার্ড দেখাচ্ছিলেন স্লোভেনিয়ার রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ।
- রেফারির কাছে মেসির আর্জি: এনজোকে লাল কার্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া চলাকালীনই মাঠের অন্য প্রান্তে হঠাৎ মাটিতে পড়ে কাতরাতে থাকেন আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নিকোলাস তাগলিয়াফিকো। সেই সময় লিওনেল মেসি বারবার রেফারিকে অনুরোধ করতে থাকেন যেন তিনি আগে গিয়ে তাগলিয়াফিকোর অবস্থা দেখেন।
- ভিডিও রিভিউয়ের সত্যতা: পরবর্তীতে বিভিন্ন ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল থেকে পাওয়া ফুটেজে দেখা যায়, তাগলিয়াফিকোর চোট পাওয়ার বিষয়টি পুরোটাই অভিনয় ছিল। যেখানে এনজো ফার্নান্দেজ স্পেনের পাউ কুবারসিকে ফাউল করেছিলেন, তাগলিয়াফিকো অবস্থান করছিলেন তার থেকে অনেকটা দূরে। এমনকি তাঁর ধারেকাছে তখন স্পেনের কোনো ফুটবলারই উপস্থিত ছিলেন না।
অভিযোগ উঠেছে, এনজোর ফাউলের কারণে তিনি লাল কার্ড দেখতে পারেন—এই আশঙ্কা থেকেই রেফারিকে বিভ্রান্ত করতে ও সতীর্থকে বাঁচাতে ওই মুহূর্তে আচমকা মাটিতে পড়ে চোটের নাটক করেছিলেন তাগলিয়াফিকো।
সমালোচনা ও ভক্তদের প্রশ্ন
বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো মর্যাদাপূর্ণ ও মেগা মঞ্চে মেসির মতো কিংবদন্তি ফুটবলারের এই ধরনের ‘ছলনার আশ্রয়’ নেওয়া নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সাধারণ ক্রীড়াপ্রেমী থেকে শুরু করে ফুটবল বিশ্লেষক—অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন যে, একজন সতীর্থকে লাল কার্ডের হাত থেকে বাঁচাতে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলারের কি এমন আচরণের প্রয়োজন ছিল?
সমাজমাধ্যমে ক্ষমা চাইলেন এনজো ফার্নান্দেজ
অন্যদিকে, ফাইনালে লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়ার পর নিজের আচরণের জন্য ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন এনজো ফার্নান্দেজ। আবেগঘন এক বার্তায় তিনি লিখেছেন:
এনজো ফার্নান্দেজের বক্তব্য:
“সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবাই বুঝতে পারবেন যে, কেবল ফলাফলের চেয়েও বড় কিছু আমরা অর্জন করেছি। বছরের পর বছর ধরে এই দলটা নিজেদের সেরাটা দিয়েছে। এরা বুঝিয়েছে, মাঠে নামা মানে শুধু জেতা নয়—বরং এই জার্সির জন্য নিজের সবটা উজাড় করে দেওয়া এবং কখনও হাল না ছাড়া। এই দলের অংশ হতে পেরে আমি গর্বিত।”

