ককরোচ জনতা পার্টির সংসদ অভিযানে ‘পুলিশি বর্বরতা’: কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশের জবাব চাইল দিল্লি হাই কোর্ট

ককরোচ জনতা পার্টির সংসদ অভিযানে ‘পুলিশি বর্বরতা’: কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশের জবাব চাইল দিল্লি হাই কোর্ট

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সংসদ ভবন অভিযানের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ’ ও লাঠিচার্জের অভিযোগে কেন্দ্র এবং দিল্লি পুলিশের কাছে জবাব তলব করল দিল্লি হাই কোর্ট। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও পুলিশ প্রশাসনকে হলফনামা দিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে, অভিযানের দিন ও সংলগ্ন এলাকার সমস্ত সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ, ভিডিওগ্রাফি এবং অন্যান্য প্রমাণসমূহ সুরক্ষিত ও সংরক্ষণ করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

বুধবার দিল্লি হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিকে উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ দুটি পৃথক জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে এই নির্দেশ দেন। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর মামলাটির পরবর্তী শুনানি ধার্য করা হয়েছে।

পটভূমি: শিক্ষায় দুর্নীতি ও নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ

শিক্ষায় দুর্নীতি এবং ‘নিট’ (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে গত ২০ জুলাই সংসদ ভবন অভিযানের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।

  • অবস্থান ও অনশন: দীর্ঘদিন ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে সংগঠনটি। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সেখানে অনশন করছেন পরিবেশকর্মী ও বিশিষ্ট আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুক।
  • বিশাল জমায়েত: গত ২০ জুলাই সিজেপির ডাকা মিছিলে যোগ দেন হাজার হাজার মানুষ, যার মধ্যে একটি বড় অংশই ছিলেন শিক্ষার্থী। অভিযোগ, এই শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ অতি মাত্রায় বলপ্রয়োগ করে এবং নির্মমভাবে লাঠিচার্জ চালায়।

আদালতে মামলাকারীদের বিস্ফোরক অভিযোগ

মামলাকারীদের পক্ষে বর্ষীয়ান আইনজীবী এন হরিহরণ, গোপাল শঙ্করনারায়ণন ও বিকাশ সিংহ আদালতে সওয়াল করেন। তাঁদের তোলা মূল অভিযোগগুলি হলো:

  • পেরেক মারা লাঠি ও সাদা পোশাকের পুলিশ: পুলিশ আন্দোলনকারীদের গণতান্ত্রিক অধিকারে বাধা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কোনো কোনো পুলিশ আধিকারিক সাদা পোশাকে পেরেক লাগানো লাঠি হাতে রাস্তায় নেমে আন্দোলন দমন করেছেন।
  • নারী ও শিশুদের ওপর হামলা: মিছিলে অংশ নেওয়া মহিলা ও শিশুদের ওপর অমানবিক লাঠিচার্জ করার পাশাপাশি, দিল্লি পুলিশের অতিরিক্ত ডিসিপি সন্দীপ লাম্বার বিরুদ্ধে বিনা প্ররোচনায় এক মহিলাকে চড় মারার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।

কেন্দ্রের সাফাই খারিজ বিচারপতির

কেন্দ্রের তরফে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল (ASG) এসভি রাজু পুলিশি বর্বরতার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, ঘটনায় কেউ আহত হয়ে থাকলে তাঁদের ব্যক্তিগতভাবে পুলিশ বা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অভিযোগ দায়ের করা উচিত।

আদালতের পর্যবেক্ষণ: কেন্দ্রের এই প্রস্তাব সরাসরি খারিজ করে দেন প্রধান বিচারপতি ডিকে উপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এটি কোনো ব্যক্তিগত গোলমালের ঘটনা নয়, বরং একটি পাবলিক ইস্যু। ফলে পৃথকভাবে থানায় গিয়ে ব্যক্তিগত অভিযোগ জানানোর কোনো প্রশ্নই ওঠে না।

অন্যদিকে, যন্তর মন্তর থেকে অনশনরত সোনম ওয়াংচুককে সাদা পোশাকের পুলিশ দিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা পৃথক একটি মামলা বুধবার খারিজ করে দিয়েছে হাই কোর্ট। কারণ হিসেবে আদালত জানায়, ইতিমধ্যে তাঁর স্ত্রীর দায়ের করা সমধর্মী একটি মামলার আইনি নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.