পশ্চিমবঙ্গের মালদহের বৈষ্ণবনগরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদর দফতরে এক জওয়ানের এলোপাথাড়ি গুলিতে প্রাণ হারালেন তাঁরই দুই সহকর্মী। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও এক জওয়ান। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিএসএফের ৭১ নম্বর ব্যাটালিয়নের ব্যারাকে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ও বিএসএফ সূত্রের খবর, অভিযুক্ত জওয়ানের নাম শিবম মিশ্র, তিনি ছত্তীসগঢ়ের বাসিন্দা। তাঁকে ইতিমধ্যেই আটক করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
বৃহস্পতিবার দুপুরে বৈষ্ণবনগরে ১১৯ নম্বর এবং ৭১ নম্বর ব্যাটালিয়নের যৌথ সদর দফতরে জওয়ানেরা যখন বিশ্রাম নিচ্ছিলেন, সেই সময়েই আচমকা রিভলভার উঁচিয়ে সহকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করেন শিবম মিশ্র। গুলিবর্ষণের ঘটনায় ঘটনাস্থলেই দুই জওয়ানের মৃত্যু হয়।
হতাহতদের পরিচয়:
- নিহত অজয় কুমার সিংহ (৫১): বাড়ি বিহারের ছাপরা জেলার মানঝি এলাকায়।
- নিহত আম্বদর সুরেশ দরগু (৩৭): বাড়ি মহারাষ্ট্রের গড়চিরৌলি জেলায়।
- আহত বিকাশ ব্রহ্ম (৪৪): বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার পোলবা থানার মহেশপুর এলাকায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় বিকাশ ব্রহ্মকে দ্রুত উদ্ধার করে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত ও আহত— তিনজনই বিএসএফের ৭১ নম্বর ব্যাটালিয়নের সদস্য ছিলেন।
অভিযুক্তের অতীত রেকর্ড ও শাস্তি
বিএসএফ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিবম মিশ্রের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের মারাত্মক অভিযোগ নতুন নয়। প্রায় এক বছর আগে সহকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগে বিএসএফের নিজস্ব কোটে তাঁর বিচার হয় এবং বিএসএফ আইনে তাঁকে শাস্তি প্রদান করা হয়। মাত্র কয়েক দিন আগেই তাঁর সেই শাস্তির মেয়াদ শেষ হয়েছিল এবং তাঁকে বাড়ি পাঠানোর প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছিল। তার মধ্যেই ফের এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটালেন তিনি।
পুলিশ ও বিএসএফের তদন্ত
ঘটনার খবর পেয়ে তদন্তে নেমেছে বৈষ্ণবনগর থানার পুলিশ। মালদহের জেলা পুলিশ সুপার অনুপম সিংহ জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিএসএফের মালদহ সেক্টরের ডিআইজি সুরেন্দ্র কুমার ঝা জানান, বিএসএফের বিভাগীয় স্তরেও ঘটনার উচ্চপর্যায়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

