মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর (Drunk Driving) গুরুতর অভিযোগ স্বীকার করে নিলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন তারকা ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার। এই অপরাধের কারণে তাঁর সর্বোচ্চ ৯ মাসের কারাদণ্ড হতে পারে। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট ‘বিগ ব্যাশ লিগ’ (BBL)-এ সিডনি থান্ডার দলের অধিনায়কত্ব হারানোর প্রবল ঝুঁকিতে পড়েছেন তিনি।
বুধবার স্থানীয় ওয়েভারলি আদালতে ডেভিড ওয়ার্নার নিজে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত না থাকলেও, তাঁর আইনজীবী ববি হিল আদালতে ক্রিকেটারের পক্ষে অপরাধ স্বীকারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানান।
ঘটনার বিবরণ ও রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা
চলতি বছরের ৫ এপ্রিল সিডনিতে গাড়ি চালানোর সময় পুলিশের হাতে ধরা পড়েন ওয়ার্নার।
- আইনি পরীক্ষা: প্রাথমিক সন্দেহের পর তাঁকে দ্বিতীয়বার পরীক্ষার জন্য সিডনির মারুব্রা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
- পরীক্ষার রিপোর্ট: সেখানে রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা পরীক্ষা করে দেখা যায়, গাড়ি চালানোর জন্য আইনত যে পরিমাণ অ্যালকোহল অনুমোদিত, ওয়ার্নারের শরীরে তার দ্বিগুণেরও বেশি অ্যালকোহল বিদ্যমান ছিল।
- আইনজীবীদের মন্তব্য: পুলিশি ধরপাকড়ের সময় জানা যায়, শেষবার মদ্যপান করার ঠিক ১১ মিনিট পর পুলিশের মুখে পড়েন ওয়ার্নার। পরবর্তীতে মে মাসেই তাঁর আইনজীবী আদালতে জানান যে ওয়ার্নার নিজের ভুল ও বোকামি বুঝতে পেরেছেন এবং গাড়ি চালিয়ে না এসে কোনো ক্যাব ভাড়া করা উচিত ছিল বলে মেনে নিয়েছেন।
ব্যক্তিগত দায় স্বীকার ও সাজা ঘোষণার দিনক্ষণ
ওয়ার্নারের আইনজীবী জানান, ইস্টারের দিন এক বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে মদ্যপান করেছিলেন ওয়ার্নার। মদ্যপান করা অপরাধ না হলেও, মদ খেয়ে নিজের গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফেরাই ছিল তাঁর মূল ভুল সিদ্ধান্ত।
আদালতের অবস্থান ও শাস্তি: প্রাক্তন অজি তারকা এই ঘটনার জন্য ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছিলেন। তবে আইন অনুযায়ী সাধারণ নাগরিকের মতোই তাঁকে সাজা ভোগ করতে হবে। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ১৮ আগস্ট এই মামলার চূড়ান্ত সাজা ঘোষণা করা হতে পারে। অপরাধের গুরুত্ব বিচারে তাঁর সর্বোচ্চ ৯ মাসের জেল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

