কয়েক মাস আগেই আইপিএলের মঞ্চ মাতিয়ে নজর কেড়েছিলেন বৈভব সূর্যবংশী। তার আগে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়েও ছিল তাঁর মুখ্য ভূমিকা। তবে জাতীয় দলের নীল জার্সিতে অভিষেকের পর থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞতাটা খুব একটা সুখকর হয়নি এই তরুণ অলরাউন্ডারের। ইংল্যান্ড সফরে ব্যর্থতার দরুন দল থেকে বাদ পড়ার অভিজ্ঞতাও হয়েছে। কিন্তু অতীতকে ভুলে জিম্বাবুয়ে সফরের শুরুতেই নিজের শতভাগ উজাড় করে দিতে মুখিয়ে আছেন বৈভব।
আয়ারল্যান্ড সফরে ভারতের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে তিনি সুযোগ পাননি। এরপর ইংল্যান্ড সফরে প্রথম তিনটি ম্যাচে সুযোগ পেলেও ব্যাটে দাগ কাটতে পারেননি। ফলে সিরিজের পঞ্চম ম্যাচে তাঁকে প্রথম একাদশ থেকে বাদ পড়তে হয়। তবে আসন্ন জিম্বাবুয়ে সফরে প্রথম একাদশে থেকে সিরিজের তিনটি ম্যাচেই খেলার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এই তরুণ ক্রিকেটারের।
“উত্থান-পতন ক্রিকেটেরই অঙ্গ”: আবেগ সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই
পঞ্চম টি-টোয়েন্টিতে বাদ পড়ার পর তরুণ বৈভবকে কিছুটা আবেগপ্রবণ দেখা গিয়েছিল। তবে বিসিসিআই (BCCI)-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বৈভব জানিয়েছেন, কঠিন সময়ে দলের কোচ ও অভিজ্ঞদের সহায়তা তাঁর আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে বড় ভূমিকা নিয়েছে।
বৈভব সূর্যবংশীর বক্তব্য: “হ্যাঁ, গত চার মাস অনেক উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে কেটেছে। তবে এটা ক্রিকেটেরই একটা অংশ, যা হতেই থাকবে। আমাকে এখন সঠিক প্রক্রিয়া বা মেথড মেনে চলে দলের জন্য নিজের ১০০ শতাংশ দিতে হবে। কোচেরা সবসময় আমার চাওয়া অনুযায়ী সাপোর্ট দিয়েছেন। যে ধরণের অনুশীলন চেয়েছি, ঠিক সেটাই পেয়েছি। ফলে এখন বেশ ভালো লাগছে এবং আত্মবিশ্বাসও অনেক বেড়েছে।”
অতীত স্মৃতি ও পরিচিত মাঠে রূপকথা ফেরার আশা
যে হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে নেমে ভারতের হয়ে আবার খেলার স্বপ্ন দেখছেন বৈভব, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সেই মাঠেই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে রাজকীয় ১৭৫ রানের ইনিংস খেলে দেশকে শিরোপা এনে দিয়েছিলেন তিনি।
সেই বিশেষ মাঠ ও অভিজ্ঞতা নিয়ে বৈভব জানান:
- স্মরণীয় স্মৃতি: “চার মাস আগে এই মাঠেই আমরা ইতিহাস গড়েছিলাম। ফলে এই মাঠটি আমার কাছে অত্যন্ত বিশেষ ও স্মরণীয়। ভারতের হয়ে খেলা সবারই স্বপ্ন, তাই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আবার এখানে নামার মুহূর্তটা খুব উপভোগ করছি।”
- অভিজ্ঞতার সঠিক ব্যবহার: “এখানকার কন্ডিশন ও পরিবেশ সম্পর্কে আমার ভালো ধারণা আছে। কয়েক মাস আগে এখানে খেলার অভিজ্ঞতাকে এবারও ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে চাই। অনুশীলনে যেসব দিক নিয়ে কাজ করেছি, সেগুলোতে জোর দিয়ে দলের জয়ে অবদান রাখাই এখন মূল লক্ষ্য।”
সফল অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ও আইপিএল পারফর্ম্যান্সের স্মৃতিকে পাথেয় করে বৈভব আশা করছেন, অতীতের সেই ছন্দ ফিরিয়ে এনে জিম্বাবুয়ের মাটিতে ভারতীয় দলের জয়ে তিনি মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারবেন।

