অনূর্ধ্ব-১৭ মেয়েদের এশিয়ান কাপ ফুটবলে ইতিহাস সৃষ্টি করল ভারত। শুক্রবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে লেবাননকে ৪-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে প্রতিযোগিতার কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেল নীল জার্সিধারীরা। ২০০৫ সালের পর এই প্রতিযোগিতায় এটিই ভারতের প্রথম জয় এবং প্রথম গোল। সেই সঙ্গে অনূর্ধ্ব-১৭ স্তরে প্রথমবার নকআউট পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করল ভারতীয় মেয়েরা।
ম্যাচের হাইলাইটস: প্রীতিকার জোড়া গোল
লেবাননের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল ভারত। দলের হয়ে একাই জোড়া গোল করে জয়ের নায়িকা প্রীতিকা বর্মন। এ ছাড়া একটি করে গোল করেছেন অলবা দেবী সেনজাম এবং জোয়া। গ্রুপের সমীকরণ অনুযায়ী, ভারত তৃতীয় দল হিসেবে কোয়ার্টারে জায়গা করে নিয়েছে। গ্রুপের অন্য দুই প্রতিপক্ষ ফিলিপিন্স এবং চিন তাইপেই তাদের ম্যাচে বড় ব্যবধানে (১২ বা তার বেশি গোল) জিততে ব্যর্থ হওয়ায় ভারতের নকআউট ভাগ্য নিশ্চিত হয়ে যায়।
সামনে শক্তিশালী চিন: বিশ্বকাপের হাতছানি
কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের মুখোমুখি হতে হবে আয়োজক দেশ চিনের। চিন নিজেদের গ্রুপের প্রতিটি ম্যাচ জিতে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে। তবে এই ম্যাচের গুরুত্ব ভারতের কাছে অপরিসীম।
বিশ্বকাপের সমীকরণ: কোয়ার্টার ফাইনালে চিনকে হারাতে পারলেই ২০২৬ সালে মরক্কোয় আয়োজিত হতে চলা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে খেলার সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করবে ভারত।
যদি ভারত এটি করতে পারে, তবে প্রথমবার নিজেদের যোগ্যতায় (Qualify করে) বিশ্বকাপে খেলবে তারা। এর আগে পুরুষ ও মহিলা— উভয় বিভাগেই ভারত অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ খেলেছে ঠিকই, তবে তা ছিল আয়োজক দেশ হিসেবে সরাসরি প্রবেশাধিকার পাওয়ার সৌজন্যে।
অতীতের ব্যর্থতা ঝেড়ে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প
২০২২ সালে ভারত যখন অনূর্ধ্ব-১৭ মহিলা বিশ্বকাপের আয়োজক ছিল, সেই স্মৃতি ছিল অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। সেই বিশ্বকাপে ভারত:
- তিনটি ম্যাচের সবকটিতেই পরাজিত হয়েছিল।
- একটিও গোল করতে পারেনি।
- বিপক্ষে মোট ১৬টি গোল হজম করেছিল (যার মধ্যে আমেরিকার কাছে ৮ গোল এবং ব্রাজিলের কাছে ৫ গোল ছিল)।
সেই ব্যর্থতার অন্ধকার কাটিয়ে লেবাননকে ৪-০ ব্যবধানে হারানো এবং নকআউটে পৌঁছানো ভারতীয় ফুটবলের জন্য এক ইতিবাচক বার্তা। এখন দেখার, চিনের প্রাচীর টপকে মরক্কোর টিকিট নিশ্চিত করতে পারে কি না ভারতের অকুতোভয় মেয়েরা।

