আইপিএলে কড়াকড়ি বিসিসিআই-এর: শৃঙ্খলা ফেরাতে ৮ পাতার কড়া নির্দেশিকা জারি ক্রিকেট বোর্ডের

আইপিএলে কড়াকড়ি বিসিসিআই-এর: শৃঙ্খলা ফেরাতে ৮ পাতার কড়া নির্দেশিকা জারি ক্রিকেট বোর্ডের

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)-এর মাঝপথেই ক্রিকেটার ও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর জন্য কঠোর নির্দেশিকা জারি করল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। সম্প্রতি বেশ কিছু ফ্র্যাঞ্চাইজি ও ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ ওঠায় নড়েচড়ে বসেছে বোর্ড। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং প্রতিযোগিতার পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে বিসিসিআই-এর পক্ষ থেকে ৮ পাতার একটি বিশদ গাইডলাইন পাঠানো হয়েছে দশটি দলকেই।


বিতর্কের জের: কেন এই কড়া পদক্ষেপ?

চলতি মরসুমে রাজস্থান রয়্যালসের ম্যানেজার রোমি ভিন্দারের ডাগআউটে বসে মোবাইল ফোন ব্যবহার কিংবা সাজঘরে রিয়ান পরাগের ‘ভ্যাপিং’ (ই-সিগারেট) বিতর্কের মতো বেশ কিছু ঘটনা বোর্ডের উদ্বেগ বাড়িয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে বোর্ড সচিব দেবজিৎ শইকীয়া ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে লিখিতভাবে শৃঙ্খলা বজায় রাখার কড়া বার্তা দিয়েছেন।

বিসিসিআই-এর নতুন নির্দেশিকার মূল পয়েন্টগুলো:

বিসিসিআই প্রেরিত নির্দেশিকায় যে বিষয়গুলো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, তা নিচে আলোচনা করা হলো:

  • বহিরাগত প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা: টিম ম্যানেজারের লিখিত অনুমতি ছাড়া হোটেল রুমে কোনো বহিরাগত বা অতিথি প্রবেশ করতে পারবেন না। অতিথিদের সঙ্গে দেখা করার জন্য শুধুমাত্র হোটেলের লবি বা রিসেপশন ব্যবহার করা যাবে। মূলত ‘হানি ট্র্যাপিং’ বা যৌন হেনস্থার মতো আইনি জটিলতা এড়াতেই এই সতর্কতা।
  • গতিবিধিতে নজরদারি: হোটেল থেকে ব্যক্তিগত বা বিনোদনের প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়ার আগে ক্রিকেটার ও কর্মীদের অবশ্যই সিকিউরিটি লিয়াজোঁ অফিসার বা টিম ইন্টিগ্রিটি অফিসারকে জানাতে হবে। টিম ম্যানেজারকে আগে থেকে অবহিত করা বাধ্যতামূলক।
  • মাঠে মালিকদের ভূমিকা: ম্যাচ চলাকালীন ডাগআউট, সাজঘর বা মাঠে ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকরা ক্রিকেটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন না। পিএমওএ (PMOA) প্রোটোকল লঙ্ঘন করাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।
  • ভ্যাপিং ও ই-সিগারেট নিষিদ্ধ: মাঠ, ডাগআউট, সাজঘর কিংবা টিম হোটেলে ই-সিগারেট বা ভ্যাপিং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যেহেতু ভারতে ই-সিগারেট আইনত নিষিদ্ধ, তাই এটি করলে আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে।

ফ্র্যাঞ্চাইজিদের জন্য ডেডলাইন

বিসিসিআই স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, এই নির্দেশিকা পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিটি দলকে একটি বাধ্যতামূলক ব্রিফিং সেশন আয়োজন করতে হবে। সেখানে সমস্ত ক্রিকেটার এবং সাপোর্ট স্টাফদের এই নিয়মগুলো বুঝিয়ে বলতে হবে এবং তাঁদের কাছ থেকে নিয়ম মেনে চলার লিখিত প্রতিশ্রুতি নিতে হবে।

নিয়ম ভাঙলে কঠোর শাস্তি

নির্দেশিকা অমান্য করলে অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী বিসিসিআই নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নিতে পারে: ১. সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা ফ্র্যাঞ্চাইজিকে শোকজ নোটিশ পাঠানো। ২. মোটা অঙ্কের আর্থিক জরিমানা। ৩. চলতি মরসুম বা পরবর্তী প্রতিযোগিতা থেকে বহিষ্কার। ৪. গুরুতর ক্ষেত্রে আইনি আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ।

বিসিসিআই-এর এই কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, আইপিএলের গ্ল্যামারের আড়ালে শৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো আপস করতে রাজি নয় বোর্ড। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, টুর্নামেন্টের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতেই এই ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ বোর্ডের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.