COVID vaccines big Update: পুরনোতে আর কোনও-ই কাজ হবে না! কোভিড টিকা নিয়ে বিরাট আপডেট- আবার নিতে হবে ভ্যাকসিন?

COVID vaccines big Update: পুরনোতে আর কোনও-ই কাজ হবে না! কোভিড টিকা নিয়ে বিরাট আপডেট- আবার নিতে হবে ভ্যাকসিন?

বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাসের নতুন রূপ বা ভ্যারিয়েন্টের দাপটের মাঝেই কোভিড প্রতিষেধক নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এল। আমেরিকার ওষুধ নিয়ামক সংস্থা ‘ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ (FDA) জানিয়েছে, করোনার সাম্প্রতিক সংক্রামক রূপগুলির বিরুদ্ধে লড়াই করতে বর্তমান কোভিড টিকাগুলির জরুরি ‘আপডেশন’ বা আধুনিকীকরণ প্রয়োজন। অর্থাৎ, ভাইরাসের নতুন রূপকে রুখতে নতুন ফর্মুলায় তৈরি করতে হবে কোভিড ভ্যাকসিন। মার্কিন নিয়ামক সংস্থার এই বার্তার পর বিশ্বজুড়ে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এফডিএ-এর মতে, বর্তমানে বিশ্বে কোভিডের সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং সংক্রামক ভ্যারিয়েন্ট হলো ‘এক্সএফজি’ (XFG)। চিকিৎসকদের মতে, বাজারে বর্তমানে যে সমস্ত কোভিড টিকা উপলব্ধ রয়েছে, সেগুলি এই নতুন ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য সম্পূর্ণরূপে উপযুক্ত বা কার্যকর নয়। আর সেই কারণেই টিকার ফর্মুলায় দ্রুত বদল আনা প্রয়োজন।

এফডিএ কমিটির ভোট ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা

আগামী শরৎ ও শীতকালীন মরসুমে বিশ্বজুড়ে কোভিডের সংক্রমণ পুনরায় মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। সেই কথা মাথায় রেখেই আগেভাগে নতুন টিকা তৈরির প্রস্তুতি নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এই আবহে এফডিএ-এর ‘ভ্যাকসিন অ্যান্ড রিলেটেড বায়োলজিক্যাল প্রোডাক্টস অ্যাডভাইজরি কমিটি’ (VRBPAC)-র একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির ৯ জন সদস্যের মধ্যে ৮ জন সদস্যই ‘এক্সএফজি’ ভ্যারিয়েন্টকে লক্ষ্য করে নতুন টিকা তৈরির পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন। বাকি একজন সদস্য ভোটদানে বিরত ছিলেন।

উল্লেখ্য, এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-ও বিশ্বের সমস্ত টিকা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলিকে মোনোভ্যালেন্ট এলপি.৮.১ (LP.8.1) স্ট্রেইন অথবা বর্তমানে সক্রিয় এক্সএফজি (XFG) ও এনবি.১.৮.১ (NB.1.8.1)-এর মতো ভ্যারিয়েন্টগুলিকে টার্গেট করে নতুন প্রতিষেধক তৈরি করার পরামর্শ দিয়েছিল।

মূল বাধা তথ্যের ঘাটতি: চিন্তায় বিজ্ঞানীরা

নতুন ফর্মুলায় এই ভ্যাকসিন তৈরি করার ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভাইরাসের বর্তমান রূপান্তর বা মিউটেশন সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্যের (Data) অভাব। বিভিন্ন দেশের রাজ্য ও স্থানীয় স্বাস্থ্য দফতর থেকে জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের (Genome Sequencing) রিপোর্ট এবং ভাইরোলজিক্যাল ল্যাবরেটরির ডেটা আদান-প্রদান ব্যাপকভাবে কমে গেছে।

এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’ (CDC)-এর কোভিড ড্যাশবোর্ডেও তথ্যের এই ঘাটতি অত্যন্ত স্পষ্ট। পর্যাপ্ত জিনোম সিকোয়েন্সিং রিপোর্ট জমা না পড়ায় সিডিসি-র পক্ষে সাপ্তাহিক ডেটা প্রকাশ করাও সম্ভব হচ্ছে না। ভাইরাসের বিবর্তনের নিখুঁত তথ্য না পাওয়ায় নতুন টিকা তৈরিতে বেগ পেতে হচ্ছে বিজ্ঞানীদের।

নির্দিষ্ট সময়েই আসবে নতুন ভ্যাকসিন, আশ্বাস প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির

বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মূলত চারটি কোভিড টিকা ব্যবহারের জন্য সরকারিভাবে অনুমোদিত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • ফাইজার-বায়োএনটেক (Pfizer-BioNTech) ও মডার্না (Moderna): এই দুই সংস্থার তৈরি তিনটি এমআরএনএ (mRNA) ভিত্তিক ভ্যাকসিন।
  • নোভাভ্যাক্স-সানোফি (Novavax-Sanofi): এই সংস্থার তৈরি একটি প্রোটিন-ভিত্তিক ভ্যাকসিন।

প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির বার্তা: আন্তর্জাতিক বাজারে ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়ে জল্পনা চললেও, ফাইজার, মডার্না এবং সানোফি ইতিমধ্যেই আশ্বস্ত করে জানিয়েছে যে, নতুন ‘এক্সএফজি’ (XFG) ফর্মুলা অনুযায়ী পরিবর্তিত কোভিড ভ্যাকসিন তারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্ববাজারে সরবরাহ করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.