আইনশৃঙ্খলা ও জনস্বার্থে কড়া শুভেন্দু সরকার: শব্দদূষণ রোধ ও প্রকাশ্যে পশু হত্যা বন্ধে পুলিশকে কঠোর নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

আইনশৃঙ্খলা ও জনস্বার্থে কড়া শুভেন্দু সরকার: শব্দদূষণ রোধ ও প্রকাশ্যে পশু হত্যা বন্ধে পুলিশকে কঠোর নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদার করতে এবং জনস্বার্থ রক্ষায় অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার রাজ্যের সমস্ত পুলিশ সুপার (SP) এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনারের (CP) সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, এই বৈঠকে ধর্মীয় উপাসনালয়গুলিতে শব্দ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রকাশ্যে গবাদি পশু হত্যা বন্ধ করার বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর নজরদারি ও আইনি পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারের এই জোড়া নির্দেশিকা ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।


ধর্মীয় স্থানে শব্দ নিয়ন্ত্রণ: সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখার নির্দেশ

বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো ধর্মীয় স্থান বা উপাসনালয় থেকে যেন নির্ধারিত ডেসিবেল মাত্রার বাইরে শব্দ ছড়িয়ে না পড়ে। শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে রাজ্য সরকারের আগের যে সমস্ত নির্দেশিকা রয়েছে, সেগুলি মাঠপর্যায়ে সঠিকভাবে কার্যকর হচ্ছে কিনা, তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

সূত্রের খবর, শব্দ দূষণ নিয়ে ইতিপূর্বেই নবান্নে সাধারণ মানুষের বহু অভিযোগ জমা পড়েছিল। সেই প্রেক্ষিতেই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ— ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা উপাসনালয়ের আড়ালে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কোনোভাবেই যেন ব্যাহত না হয়। প্রতিটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত ‘সাউন্ড লিমিট’ বা শব্দের সীমা মেনে চলা হচ্ছে কিনা, তা প্রতিনিয়ত নজরদারি করবে পুলিশ।


প্রকাশ্যে পশু হত্যায় নিষেধাজ্ঞা: আইন ভাঙলে কঠোর ব্যবস্থা

শব্দ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি প্রকাশ্যে পশু হত্যা নিয়েও পুলিশকে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সম্প্রতি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত যে নির্দেশিকা জারি হয়েছে, তা কঠোরভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন:

  • নির্দিষ্ট এবং অনুমোদিত কসাইখানা বা জায়গা ছাড়া অন্য কোথাও গবাদি পশু বলি বা জবাই করা যাবে না।
  • বিশেষ করে গরু, মহিষ, বলদ এবং বাছুরের মতো পশুর ক্ষেত্রে প্রকাশ্যে বা আইন বহির্ভূতভাবে হত্যার ঘটনা ঘটলে পুলিশকে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
  • বেআইনিভাবে বা অমানবিক উপায়ে গাড়িতে করে পশু পরিবহনের ঘটনাও কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এমন কোনো তথ্য বা ঘটনা সামনে এলে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে প্রশাসনকে।

১৯৫০ সালের আইন আরও কঠোরভাবে কার্যকর করছে স্বরাষ্ট্র দফতর

গত বুধবারই রাজ্য স্বরাষ্ট্র দফতরের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়, যত্রতত্র পশু হত্যা বা আইন বহির্ভূতভাবে পশু জবাই করা এখন থেকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে পরিগণিত হবে। এই বিষয়ে ১৯৫০ সালের সংশ্লিষ্ট আইনকে আরও কঠোরভাবে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মূলত সেই নির্দেশিকাই দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য পুলিশকর্তাদের নির্দেশ দেন।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, আগামী শনিবার ডায়মন্ড হারবার সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেও স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর একটি পর্যালোচনা বৈঠক করার কথা রয়েছে। তার আগেই রাজ্যজুড়ে শব্দ দূষণ ও বেআইনি পশু হত্যা রুখতে মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.