বাঁকিপুরে জয়ের পর ফোকাসে উন্নয়ন, বিরোধীদের জোটের জল্পনা ওড়ালেন প্রশান্ত কিশোর

বাঁকিপুরে জয়ের পর ফোকাসে উন্নয়ন, বিরোধীদের জোটের জল্পনা ওড়ালেন প্রশান্ত কিশোর

বিহারের বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বিশাল জয়ের পর স্পষ্ট বার্তা দিলেন নির্বাচনী কৌশলবিদ তথা জন সুরাজ (Jan Suraaj) প্রধান প্রশান্ত কিশোর (পিকে)। তাঁর মূল লক্ষ্য বিহারের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা; বিরোধী দলগুলির মধ্যে ঐক্যের রাজনীতি গড়ে তোলার কোন পরিকল্পনা তাঁর নেই বলে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রশান্ত কিশোর জানান, বাঁকিপুরের স্থানীয় প্রতিনিধিকে নিয়ে আর ওখানকার সাধারণ মানুষকে সংকোচ বোধ করতে হবে না।

বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের ছেড়ে দেওয়া এই আসনে প্রায় ১৯,০০০ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন প্রশান্ত কিশোর। ঐতিহাসিক এই জয়ের পরপরই ভোটারদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, আগামী তিন মাসের মধ্যেই বাঁকিপুরে দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাবে। পিকে বলেন, “তিন মাসের মধ্যে বাঁকিপুরে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে পাবেন সকলে। স্থানীয় স্তরের দুর্নীতি সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করব আমরা।”

উল্লেখ্য, বাঁকিপুর দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। ১৯৯৫ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত টানা চার বার এই কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন বিজেপির বর্তমান সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিনের পিতা প্রয়াত নবীন কিশোর প্রসাদ সিন্‌হা। পরবর্তীকালে, ২০০৮ সালের আসন পুনর্বিন্যাসের পর ২০১০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা চার বার বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হন স্বয়ং নিতিন নবীন। বিজেপি তাঁকে রাজ্যসভায় মনোনীত করার পর খালি হওয়া এই বাঁকিপুর আসনেই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

বিজেপির দুর্গ হিসেবে বিবেচিত এই কেন্দ্রে তাদের পরাজিত করার পর পিকে জানান, এই জনাদেশের মাধ্যমে বিহারের সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক দলগুলিকে একটি স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। বিহারের ভোটাররা এখন এমন নেতৃত্ব চান, যাঁরা কেবল দলীয় সমীকরণ নয়, বরং শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ওপর জোর দেবেন। প্রশান্ত কিশোর বলেন, “বিহারের জন্য একজন যোগ্য মুখ্যমন্ত্রী নিশ্চিত করাই আমার প্রধান লক্ষ্য। এই রাজ্যে এমন একটি সরকারের প্রয়োজন, যা শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, যাতে সাধারণ মানুষকে জীবিকার খোঁজে ভিন্‌রাজ্যে পাড়ি দিতে না হয়।”

নিজের নির্বাচনী এলাকা নিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়ে পিকে জানান, বাঁকিপুরের সরকারি স্কুলগুলির মানোন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য তিনি প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করবেন। তা সম্ভব না হলে, দরিদ্র পরিবারের শিশুরা যাতে মানসম্পন্ন বেসরকারি স্কুলে পড়ার সুযোগ পায়, তার যথাযথ ব্যবস্থা তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগেই গ্রহণ করবেন।

গত বছর বিহার বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দল খাতা খুলতে ব্যর্থ হলেও, গত তিন বছরের নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রমের ফল এই উপনির্বাচনে মিলেছে বলে দাবি করেন পিকে। তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর প্রচারের আর্জি মেনে জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে সমস্ত শ্রেণির ভোটারেরা তাঁকে ভোট দিয়েছেন। ফলে বাঁকিপুর বিধানসভা এলাকার মোট ৪২২টি বুথের মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বুথেই বিজেপি পরাজিত হয়েছে।

বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের কেন্দ্রে এই পরাজয়ের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা তৈরি হয়—আগামী বছর উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন সহ অন্যান্য লড়াইয়ে বিরোধী জোট কি এই জনাদেশকে হাতিয়ার করবে? বিরোধী ঐক্যে কি প্রশান্ত কিশোরের মুখ্য ভূমিকা থাকবে? সেই সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে পিকে জানান, “আমার একমাত্র লক্ষ্য বিহার ও তার বিকাশ, বিরোধী দলগুলোর ঐক্য নয়। আমরা বিহারের উন্নয়নের জন্য কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এখানে বিরোধী জোট গঠন করার মতো কোনো প্রয়োজনীয়তা আমরা দেখছি না।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.