ক্লাব ফুটবল হোক কিংবা আন্তর্জাতিক মঞ্চ— মাঠ ও মাঠের বাইরে বহুবার বর্ণবিদ্বেষী (Racism) আক্রমণের শিকার হয়েছেন ব্রাজিলীয় তারকা ভিনিসিয়াস জুনিয়র। সম্প্রতি মুখ ঢেকে তাঁর উদ্দেশে বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য করার অপরাধে ফিফা এক ফুটবলারকে কড়া শাস্তিও দিয়েছে, পাশাপাশি আনা হয়েছে নতুন নিয়ম। তবে এসব বিতর্কের মাঝেও মাঠের পারফরম্যান্সে অবিচল রিয়াল মাদ্রিদ তথা সেলেকাও তারকা। বিশ্বকাপের হাই-ভোল্টেজ নকআউট পর্বে নামার আগে বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে আরও একবার গর্জে উঠলেন তিনি। একই সাথে ভাগ করে নিলেন তাঁর বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা এবং জীবনের লড়াইয়ের গল্প।
“সমস্ত কৃষ্ণাঙ্গের কণ্ঠস্বর হতে চাই”: ভিনিসিয়াস
ব্রাজিলের একটি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভিনিসিয়াস বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে চলমান লড়াই প্রসঙ্গে বলেন:
“আমি আশা করি এই (বর্ণবিদ্বেষ বিরোধী) বিপ্লব জারি থাকবে, যাতে আমাদের পরের প্রজন্মকে আর কোনোদিন এমন কুৎসিত আক্রমণের মুখোমুখি হতে না হয়। মাঠে আমি আমার সেরা ফুটবল খেলে তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতে চাই। আমি বিশ্বের সমস্ত কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের হয়ে মুখ খুলতে চাই, যাঁদের প্রতিবাদ করার মতো সেই জোর বা ক্ষমতা নেই যা আজ আমার আছে।”
বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্নপূরণ ও দীর্ঘ লড়াই
শৈশব থেকেই দেশের হয়ে বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন বুকে লালন করতেন ভিনিসিয়াস। কেরিয়ারের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ খেলতে নেমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি বরাবরই বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখে এসেছি। দেশের জার্সিতে বিশ্বকাপের মঞ্চে নামার চেয়ে বড় গৌরব আর কিছুতে হতে পারে না। বাইরে থেকে ব্যাপারটা দেখতে খুব সহজ মনে হলেও, এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে বছরের পর বছরের কঠোর পরিশ্রম ও অসীম কষ্ট।”
সাফল্যের নেপথ্যে ঠাকুমার অবদান
ফুটবলার হিসেবে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছানোর পেছনে নিজের ঠাকুমাকে সম্পূর্ণ কৃতিত্ব দিয়েছেন ভিনিসিয়াস। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি জানান, তাঁর ঠাকুমা না থাকলে হয়তো ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন কোনোদিনই সত্যি হতো না।
শৈশবের স্মৃতি চারণ করে ব্রাজিলীয় উইঙ্গার বলেন, “আমার জীবনে ঠাকুমা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একজন মানুষ। আমি ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত ওঁর কাছেই বড় হয়েছি। কাজের সূত্রে আমার বাবা সবসময় অনেক দূরে থাকতেন। তাই মা ও ভাইয়ের সাথে আমি ঠাকুমার বাড়িতেই থাকতাম। আমাদের ঘরটা ছোট ছিল বলে আমি ঠাকুমার সাথেই ঘুমাতাম এবং আমার সমস্ত দেখভাল ওই করত। আজ ওঁর অবদান নিয়ে বলতে গিয়ে আমি ভাষা হারিয়ে ফেলছি।”
বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এই মানসিক জোর এবং ফুটবলের প্রতি একাগ্রতা— দুই-ই যে তিনি পরিবার থেকে পেয়েছেন, তা ভিনিসিয়াসের কথাতেই স্পষ্ট। আপাতত মাঠের বাইরের এই লড়াইকে সঙ্গী করেই ব্রাজিলকে বিশ্বমঞ্চে ট্রফি জেতাতে পাখির চোখ করছেন এই তারকা।

