অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের স্মৃতি ফিরিয়ে এনে হারারের মাঠে আরও একবার জ্বলে উঠলেন বৈভব সূর্যবংশী। তরুণ এই ব্যাটারের দ্রুততম অর্ধশতক এবং গতি তারকা মায়াঙ্ক যাদবের চমৎকার বোলিংয়ের ওপর ভর করে জিম্বাবুয়েকে ৭ উইকেটে পরাজিত করল ভারত। বিশ্বকাপের পর এটিই ভারতের প্রথম টি-টোয়েন্টি জয়। একই সঙ্গে অধিনায়ক হিসেবে টানা হারের বৃত্ত ভেঙে প্রথম জয়ের স্বাদ পেলেন শ্রেয়স আইয়ার।
বৃহস্পতিবার হারারে স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে টস জিতে জিম্বাবুয়েকে প্রথমে ব্যাটে পাঠান ভারতীয় অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১২৫ রান তুলতে সক্ষম হয় স্বাগতিকেরা। জবাবে ব্যাটে নেমে ৪০ বল বাকি থাকতেই জয়ের লক্ষে পৌঁছে যায় ভারত (১২৬/৩)।
বৈভবের বিশ্বরেকর্ড ও বিধ্বংসী ব্যাটিং
ব্যর্থতার গণ্ডি পেরিয়ে নতুন শুরুর প্রতিশ্রুতি রেখেছিলেন তরুণ ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশী। মাঠে নেমে সেই কথার প্রমাণ দিলেন তিনি। ৪টি চার ও ৪টি ছক্কার সাহায্যে মাত্র ১৯ বলে ৫০ রানের এক ঝড়ো ইনিংস উপহার দেন বৈভব।
এই ইনিংসের মাধ্যমেই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সর্বকনিষ্ঠ ব্যাটার হিসেবে অর্ধশতক করার ঐতিহাসিক নজির গড়লেন তিনি। ১৫ বছর ১১৮ দিন বয়সে এই কীর্তি স্থাপন করে তিনি জিব্রাল্টারের লুইস ব্রুসের (১৬ বছর ৫৬ দিন) রেকর্ড ভেঙে দেন। পূর্ণ সদস্য দেশের ব্যাটারদের মধ্যে এই নজির এতদিন ছিল আফগানিস্তানের রহমানুল্লাহ গুরবাজের (১৭ বছর ২৯৬ দিন)।
মায়াঙ্কের গতি ঝড় ও ভারতের জয়
২০২৪ সালের অক্টোবরের পর চোট সারিয়ে জাতীয় দলের জার্সিতে ফেরেন পেসার মায়াঙ্ক যাদব। নেমেই প্রথম বলে ব্রায়ান বেনেটকে (০) সাজঘরে ফেরান তিনি। পুরো ম্যাচে ধারাবাহিক ভাবে ঘণ্টায় ১৪৫ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করে ডিয়ন মায়ার্সকেও (৬) পরাস্ত করেন তিনি। ৪ ওভারে ১৮ রান দিয়ে ২ উইকেট তুলে নিয়ে নিজের প্রত্যাবর্তন স্মরণীয় করে রাখেন মায়াঙ্ক। অন্যদিকে, গুজরাত টাইটান্সের হয়ে আইপিএল খেলা অশোক শর্মার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হলেও তিনি ৪ ওভারে ২৯ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি।
জিম্বাবুয়ের পক্ষে রায়ান বার্ল (২৬) ও ওয়েসলি মাধেভেরে (৩৮) প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও ভারতীয় বোলিংয়ের সামনে স্বাগতিকদের স্কোর ১২৫ রানের বেশি বাড়েনি। শেষের দিকে তাদিওয়ানাশে মারুমানি ২০ বলে অপরাজিত ২৭ রান যোগ করেন।
সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওপেনার অভিষেক শর্মা (১) দ্রুত আউট হলেও বৈভবের তাণ্ডবে জয় অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায়। পরবর্তীতে ঈশান কিষাণ ৩৫ রান করে আউট হন। অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার (অপরাজিত ২৮) এবং তিলক বর্মা (অপরাজিত ৬) বাকি পথ নিরাপদে অতিক্রম করে দলকে সহজ জয় এনে দেন।
আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে একের পর এক পরাজয়ের পর অবশেষে অধিনায়ক শ্রেয়সের হাত ধরে জয়ের সরণিতে ফিরল ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দল।

