মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পরেও কেন নন্দীগ্রাম ছেড়ে ভবানীপুর আসনকে বেছে নিয়েছিলেন, অবশেষে তার রাজনৈতিক ব্যাখ্যা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় তিনি স্পষ্ট জানান, তিনি নন্দীগ্রামের ভোটার হিসেবেই থাকবেন। পাশাপাশি, দলত্যাগী প্রতিপক্ষদের আক্রমণ ও সংখ্যালঘুদের উদ্দেশে বন্ধুত্বের বার্তা দেওয়ার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচার সারেন তিনি।
“ভবানীপুর ছাড়লে ও দাঁড়িয়ে যেত”
শুক্রবার হরিপুরের দেবীপুর হাই স্কুল মাঠে বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে আয়োজিত বিশাল জনসভায় শুভেন্দু জানান, তাঁর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার নেপথ্যে নন্দীগ্রামের মানুষের দু’দশকের অবদান রয়েছে। জোড়া বিধানসভা আসন থেকে জয়ের পর নন্দীগ্রামের বদলে ভবানীপুর আসনটি বেছে নেওয়া নিয়ে নন্দীগ্রামবাসীর ক্ষোভ বা অভিমান থাকা স্বাভাবিক বলে মেনে নেন তিনি।
সেই প্রসঙ্গে ব্যাখ্যা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন:
‘‘অনেকে প্রশ্ন তুলতে পারেন, আমি কেন নন্দীগ্রাম ছেড়ে ভবানীপুর বেছে নিলাম। ভবানীপুর ছাড়লে ও দাঁড়িয়ে যেত, যাকে আমি দ্বিতীয় বার হারিয়েছি। তবে এখানে ভারতমাতাকে সাক্ষী রেখে কথা দিয়ে গেলাম, আমার নাম নন্দীগ্রামের ভোটার তালিকায় ছিল, আছে এবং থাকবে। এখান থেকে নাম কাটব না।’’
পাশাপাশি আগামী দুই বছরের মধ্যে নন্দীগ্রামকে আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তোলার এবং প্রয়োজনে পুরসভায় রূপান্তরিত করার আশ্বাস দেন তিনি।
৬ অক্টোবরের ভোটকে ‘বন্ধু দিবস’ ঘোষণা ও সংখ্যালঘুদের আহ্বান
উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থীকে বিপুল ভোটে জয়ী করার আহ্বান জানিয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দেন শুভেন্দু অধিকারী। ৬ অক্টোবরের ভোটগ্রহণকে ‘বন্ধু দিবস’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন:
‘‘সংখ্যালঘুদের কাছে আবেদন, আমার সঙ্গে বন্ধুত্ব করার একটা বড় সুযোগ এসেছে। আগামী ৬ তারিখ বন্ধু দিবস, ৯ তারিখ গণনা দিবস। আপনারা বন্ধুত্ব করুন, আমরা একসঙ্গে চলব। নন্দীগ্রামের উন্নয়নের অংশীদার হবেন আপনারাও।’’
চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ড ও ‘ভাইপো গ্যাং’-কে নিশানা
জনসভায় বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের প্রয়াত পুত্র চন্দ্রনাথ রথের প্রসঙ্গ টেনে নাম না-করে তৃণমূল নেতৃত্ব ও ‘ভাইপো গ্যাং’-এর ওপর আক্রমণ শানান শুভেন্দু। বিমানবাহিনীর প্রাক্তন কর্মী চন্দ্রনাথ রথ ছিলেন শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক। নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর গত ৬ মে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে আততায়ীদের গুলিতে খুন হন তিনি।

