চলতি প্যারা এশিয়ান গেমসে ভারতের ক্রীড়াবিদরা তাঁদের সর্বকালের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স উপহার দিলেন। টুর্নামেন্টের একটি দিনে একযোগে ২৬টি পদক অর্জন করেছে ভারত, যার মধ্যে রয়েছে ৭টি স্বর্ণপদক। এই দুর্দান্ত সাফল্যের সুবাদে পদক তালিকায় চীন, জাপান ও উজবেকিস্তানের ঠিক পরেই চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে ভারত। বর্তমানে প্রতিযোগিতায় ভারতের মোট পদক সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৮টিতে, যার মধ্যে ২১টি সোনা, ২৬টি রুপো এবং ৪১টি ব্রোঞ্জ রয়েছে।
শীতল দেবীর জোড়া সোনা বৃহস্পতিবারের দিনটি বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে রইল তিরন্দাজ শীতল দেবীর অসাধারণ সাফল্যে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দুই হাতের অনুপস্থিতিতে কেবল পা দিয়ে তীর ছুড়ে মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি সোনা জয় করেন তিনি। প্রথমে মিশ্র দলগত কমপাউন্ড ইভেন্টে তোমান কুমারের সঙ্গে জুটি বেঁধে সোনা জেতেন শীতল। এরপর ব্যক্তিগত মহিলাদের কমপাউন্ড ইভেন্টেও নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে দ্বিতীয় স্বর্ণপদকটি অর্জন করেন তিনি।
অ্যাথলেটিক্সে পদকের বন্যা প্যারা এশিয়ান গেমসের অ্যাথলেটিক্স ইভেন্টেও দারুণ সাফল্য পেয়েছে ভারত। পুরুষদের লং জাম্পের টি৪৪/টি৬২/টি৬৪ ইভেন্টে ৭.১৫ মিটার লাফিয়ে নতুন এশিয়ান রেকর্ড গড়ে স্বর্ণপদক জিতেছেন ধর্মরাজ সোলাইরাজ। এছাড়া পুরুষদের হাই জাম্পের টি৬৩ ইভেন্টে সোনা জয় করেছেন শৈলেশ কুমার। একই ইভেন্টে ভারতের বরুণ ভাটি রুপো এবং রাহুল ব্রোঞ্জ পদক নিজেদের নামে করেছেন।
ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে সাফল্যের ধারা বজায় রেখে মহিলাদের ৪০০ মিটার টি৪৭ ইভেন্টে ৫৯.৯৭ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে সোনা জিতেছেন অঞ্জনাবেন বুম্বাদিয়া। পাশাপাশি, পুরুষদের ৪০০ মিটার টি৪৭ ইভেন্টে ৪৮.২৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করে স্বর্ণপদক অর্জন করেন দিলীপ গাভিত। ভারতের হয়ে দিনের সপ্তম ও শেষ সোনাটি আনেন সুবর্ণা রাজ। মহিলাদের ডিসকাস থ্রোয়ের এফ৫৪ ইভেন্টে ১৫.৬৬ মিটার দূরত্বে ডিসকাস ছুড়ে তিনি এই সোনা জয় করেন।
ভাবিকুমারের রুপো হারানো নিয়ে নাটকীয় পরিস্থিতি দিনের অন্য একটি ইভেন্টে ভারতের সাফল্যের মাঝে সামান্য হতাশাও জড়িয়ে ছিল। পুরুষদের ৪০০ মিটার টি৪৭ ইভেন্টেই ৪৯.৩১ সেকেন্ড সময় নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে দৌড় শেষ করে রুপো জিতেছিলেন ভাবিকুমার ভারওয়ারাদ। কিন্তু অন্যান্য প্রতিযোগীরা অভিযোগ তোলেন যে দৌড়ানোর সময় তিনি নিজের নির্ধারিত লেন ছেড়ে অন্য লেনে চলে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ভিডিও রিপ্লে-তে সেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আয়োজকরা ভাবিকুমারের কাছ থেকে তাঁর অর্জিত রুপোর পদকটি কেড়ে নেন। অন্যথায় ভারতের ঝুলিতে আরও একটি পদক যুক্ত হতে পারত।

