পঞ্চম পর্ব বৈশ্য সমাজে প্রচলিত নৌকাপূজার জন্য বাণিজ্যের প্রতীক হিসাবে চিত্রিত এবং রঞ্জিত শোলার নৌকা প্রস্তুত হয়। শীতলা , মনসা ইত্যাদি পূজার জন্য কাগজের দোলা , নৌকা প্রভৃতি সামগ্রী মালাকারগণ প্রস্তুত করেন। প্রথমে বাঁশের বাতা দিয়ে কাঠামো প্রস্তুত করা হয় , তারপর ওই কাঠামোতে কাগজ সাঁটা হয়। কাগজে কখনো কখনোRead More →

অমরবঙ্গজ্যোতিষ্ক পবিত্র ভারতভূমি বহু মহামানবের আবির্ভাধন্য। আমি প্রথমে যে মহাপুরুষটির কথা বলিব তিনি সেইসব নির্বোধদের মধ্যে পড়েন না যাঁহারা নিজের জীবন বিপন্ন করিয়া দেশোদ্ধারে ব্রতী হইয়াছিলেন। সেই মন্দবুদ্ধি মহামানবদের কাহারও কপালে জুটিয়াছিল প্রবাসে মৃত্যু, কাহারও মৃত্যুপূর্বে চরম অবহেলা ও একাকিত্ব, কাহারও বা অপমৃত্যু।           অর্থনীতিতে “rational man” সংজ্ঞায়িত হইয়াছে এইরূপে – “who tries to maximize hisRead More →

এই নিষ্প্রাণ দেহটাতে নেই কোনো ভালবাসার ছাপ, অর্থহীন রিক্ত জীবনটাতে অর্নিদিষ্ট কালের অভিশাপ। দুই চোখে ধোঁয়া আর ধোঁয়া হৃদয়ে পড়েনি তার আঁচ , প্রতিফলন বেচে দেওয়া – মৃত্যুর মুখ মোড়া সেই কাঁচ। দুর্লভ নিঃস্বার্থ এই জীবনে অকেজো স্বপ্ন অচেতন, স্বর্গ সুখের খোঁজে ফিরে শেষ মেশ মৃত‍্যুকে আলিঙ্গন। অবাঞ্ছিত মায়াবী কোনো ছায়াRead More →

আমার কিছু কষ্ট আছে। কষ্ট নিয়েই আমি বাঁচি। মন কে বলি রোজ সকালে বেশ তো আছি, ভালই আছি। মাঝে মাঝে ফাগুন হাওয়া কেমন যেন ডাক দিয়ে যায়, পাগলা মন কে শাসন করে ফেরাই তাকে পূবালী বায়। আমার মতো অনেক যারা উল্টো হাওয়ার পাগলাক্ষ্যাপা, দুঃখ যাদের জীবন গাথা কষ্ট দিয়ে জীবন মাপা!Read More →

মাধাইপুর স্টেশনে নেমে শৌভিক পকেট থেকে পোস্টকার্ডটা বের করল। চিঠিতে বেশ প্রাঞ্জল ভাষায় পথনির্দেশ দিয়েছেন মহিলা। –মাধাইপুর স্টেশনে নামবে। স্টেশনের বাইরে অটোস্ট্যান্ড পাবে। অটোওয়ালাকে মাধাই আচার্যের আশ্রমে যাব বললেই তোমাকে পৌঁছে দেবে। আমার গুরুদেবের নামেই স্টেশনের নাম। এখানকার লােকেরা ওঁকে খুব শ্রদ্ধা করে। তােমার কোনও অসুবিধে হবে না। পােস্টকার্ড যথাস্থানেRead More →

১ আমাদের গ্রামে লম্বা, ঢেঙ্গা একজন বুড়ি থাকত। সাড়ে পাঁচ ফুটের বেশি লম্বা গায়ের পিথুর গায়ের  রঙ ছিল মিশকালো। মুখ রামকিঙ্করের ভাস্কর্য এর মত, খোদাই করা। যেন প্রাচীনকাল থেকে উড়ে আসা এই যুগে অবস্থান করা কোন আদিম মানবী। পিথু বুড়ির বয়স কেউ বলত ষাট, কেউ বলত সত্তর, আবার কেউ বা বলতো পঁচাত্তর বছর। জাতিতে ছিলRead More →

কাছারির মাঠে কাল জীবনের প্রথম একটা বড় ম্যাচ খেলতে নামবে পুলক। এতকাল স্কুল বা কলেজের হয়ে অনেক ম্যাচ খেলেছে সে অনেক মাঠেই। মাঝমাঠের প্লেয়ার হিসেবে তার বেশ নামডাকও হয়েছে। পাড়ার অগ্রবাণী ক্লাব কিংবা তাদের বীণাপানি স্কুলের টিমে পুলক ছিল নিয়মিত ফুটবলার। কিন্তু সে সব তো একেবারেই সাদামাঠা খেলা। আগে যখনRead More →

বৈশাখের মধ্যরাত্রী, অনামিকা বালিশে মাথা গুঁজে ঘুমানোর চেষ্টা করছে – রাত পেরোলেই মর্নিং-ডিউটি। বীরভূমের এই গণ্ডগ্রামে, বিচ্ছিন্ন হেলথ সেন্টারটিতে নার্সিং স্টাফের কাজ করছে বছর খানেক হল। বাড়ি প্রায় কুড়ি কিমি দূর, তাই মেস ভাড়া নিয়েছে – ও আর কবিতা দুজনে মিলে। আজ কবিতার নাইট শিফট, তাই তাড়াতাড়ি খেয়ে নিয়ে শুয়ে পড়েছে অনামিকা – কিন্তু ঘুম আসছেনা। তারই মধ্যে উঠেছে প্রবল ঝড়, পাল্লা দিয়ে বজ্রপাত আর বৃষ্টি। যেটুকু ঘুম এসেছিল, সেটুকুও চটকে গেলে জানালা-দরজার ধুপধাপের ঠেলায়। একগাদা বিরক্তি নিয়ে কোনোরকমে   দুই জোড়া জানালা বন্ধ করলো, দরজার ছিটকিনিটা ভালো করে লাগিয়ে আবার বালিশে মাথা দিল। কিন্তু সে দরজা তো আর সেরকম মজবুত নয়, ঝড়ের ঠেলায় অনবরত আওয়াজ করতে থাকল। সপ্তাহ খানেক আগেই মালতিদি-কে দরজার নড়বড়ে অবস্থা নিয়ে অভিযোগ করেছিলো, কিন্তু গ্রামের দিকে কি আর কথা বলতেই মেস – এর দরজা সারাই হয়ে যায়?! ওইটুকু অ্যাডজাস্ট করতেই হয়। বালিশে মাথা চেপে প্রচন্ড রাগ উঠল মালতিদির উপর, মাস গেলে ভাড়াটা দিতে তো কার্পণ্য করেনা সে – তবে মেন্টেনেন্স নিয়ে এত গা এলানো ভাব কেন! সারারাত ধুপধাপ চলতে থাকে দরজায়, রাগে – বিরক্তিতে মাথা বালিশে চেপে শুয়ে থাকে অনামিকা। দিনটাই যেন অশুভ; সকালে হেলথ সেন্টারে পেশেন্ট পার্টির গালিগালাজ, সন্ধ্যায় মৈনাকের  সাথে ঝগড়া, আর এখন এই মাঝরাতে ঝড়ের তান্ডব-দরজার শোরগোল। বিয়ের কথা উঠতেই কেমন যেন রেগে গেছিল মৈনাক, “বললেই হল!! বিয়ে করে নিয়ে চলো কলকাতা?!” ঘণ্টা দুইয়ের তান্ডবের পর দরজাও স্তব্ধ হয়, তবুও সারারাত ঘুমোতে পারেনা অনামিকা। সকালে উঠে কোনোরকমে নিজের পরিশ্রান্ত দেহমন নিয়ে রেডি হল। স্যুইচ অফ করা মুঠোফোনটা অন করলো অনামিকা, বাজ পড়লে বন্ধই রাখে ওটাকে। সব কাজ সেরে বেরোতে যাবে, এমন সময় মালতিদি হাজির; মাসের তিন তারিখ – ভাড়া চাই তার। অনামিকা তো রেগে খুন—“দিদি! তুমি দয়া করে এবার দরজাটার একটা ব্যাবস্থা করো! কাল রাতে একফোঁটাও ঘুমাতে পারিনি”। –“দরজা যে পরশুদিনই ঠিক করায়া দিসি, আওয়াজ কেমনে হইল?” অনামিকা তো অবাক! সারারাত তবে কিসের আওয়াজ শুনলো সে! দরজাটার কাছে গিয়ে নেড়ে দেখলো, সত্যিই তো! দরজা যে রিপেয়ারড! তবে কাল রাতে…………           মুঠোফোনের নোটিফিকেশন টোনটা এদিকে বেজেই চলেছে; ফোনটা হাতে নিয়ে Whatsapp – খুলতেই মৈনাকের শেষ মেসেজ – 1:30 am – ‘দরজা খোলো অনামিকা, প্লিজ!’         মৈনাক কলকাতাগামী ট্রেনের দুটো টিকিট আর একটা ট্রলি ব্যাগ নিয়ে সকাল ছটার ট্রেনে রওনা দিল, অনামিকা দরজা বন্ধ করে হেলথ সেন্টারে মর্নিং-ডিউটি জয়েন করলো। ******** অনামিকার রুমের দরজা সারাই করে দিয়েছে মালতিদি, কিন্তু দরজা যে আজও নড়বড়ে………Read More →

মোপলা হিন্দু গণহত্যা ১৯২১: ২৫০০ জন হিন্দুকে যেখানে হত্যা করে হয়েছিলো। আরতি আগরওয়াল অপরাধীঃ  কেরলের মোপলা / ম্যাপিলা মুসলিমরা সময়ঃ ১৯২১-২২ পরিসংখ্যানঃ ·         ২৫০০ জন হিন্দু নিহত হয়। ·         কমপক্ষে ২৬০০ জন রিফিউজি হয়ে পালাতে বাধ্য হয়। ·         কমপক্ষে ২৬০০ জনকে জোর করে ধর্মান্তরিত ও যৌন নির্যাতন করা হয়। ·         শতাধিক হিন্দু মন্দির ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।Read More →

থীম: দুর্গতিনাশিনী যেখানে দুর্গতিগ্রস্ত বুকের মধ্যে ঢাকের বাদ্যি শুরু হয়ে যায় মহালয়ার ভোরে চণ্ডীপাঠ থেকে। বছরের একটিমাত্র দিনে ভোর বেলা উঠে রেডিও খুলে শোনো, নতুবা ফস্কে গেলে আপসোস করো – এই শৃঙ্খলা কবে চূরমার; কারণ ইদানিং মণ্ডপে মণ্ডপে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ পঙ্কজ মল্লিকরা যখন তখন উপস্থিত। শুধু মণ্ডপ কেন, বাজারে সিডি বাRead More →