সৌদি আরবের কিং ফাহদ বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলায় অন্তত দু’জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন ভারতীয় নাগরিকও রয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া এই হামলায় গুরুতর জখম হয়েছেন আরও অনেকে, যাদের মধ্যে ভারতীয়, পাকিস্তানি এবং বাংলাদেশি নাগরিকরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। মর্মান্তিক এই হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারত।
দূতাবাসের পদক্ষেপ ও হামলার নেপথ্য রিয়াদে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, তারা হামলার ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে। পাশাপাশি, নিহত ও আহতদের পরিবারের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এই হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা স্পষ্ট হয়নি। উল্লেখ্য, অতীতে সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে সংঘটিত এ ধরনের হামলার দায় স্বীকার করেছিল ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী।
সৌদি আরবের অসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই হামলার ফলে কিং ফাহদ বিমানবন্দরে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হামলার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হলেও পরবর্তীতে পরিষেবা স্বাভাবিক করা হয়।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিক্রিয়া সৌদি বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি প্রকাশ করেছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, “আমরা আবারও জোর দিয়ে বলছি, সাধারণ নাগরিক এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর উপর এ ধরনের হামলা কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অবিলম্বে এমন আক্রমণ বন্ধ হওয়া উচিত। সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে আমরা সে দেশের জনগণ এবং সরকারের পাশে আছি। আমরা আশা করি, দ্রুত ওই অঞ্চলে শান্তি এবং স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে।”
চলতি মাসে হুথি আক্রমণ ও পূর্বের ঘটনা চলতি মাসে প্রায় প্রতিদিনই সৌদি আরবের বিভিন্ন ভূখণ্ড লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে হুথি বিদ্রোহীরা। এর মাত্র কয়েক দিন আগেই রিয়াদ থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে দামাম বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছিল ইয়েমেনের এই সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী। এছাড়া গত কয়েক দিন ধরে সৌদির রাজধানী রিয়াদের কিং খলিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকেও লাগাতার নিশানা করছে হুথি গোষ্ঠী।
গত ১০ অক্টোবর ওই বিমানবন্দর লক্ষ্য করে চালানো একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। সেই হামলায় ১১ জন ভারতীয় নাগরিকও জখম হয়েছিলেন। ইতিপূর্বেও সৌদির দামাম বিমানবন্দর এবং জ্বালানি সংস্থা ‘আরামকো’র একাধিক শোধনাগারে হুথি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে হামলা চালানোর ঘটনা ঘটেছে।

