দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে আন্দোলন জোরদার করল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। পুলিশের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শুক্রবার মুম্বইয়ের ঐতিহ্যবাহী শিবাজী পার্কে ‘জেল ভরো আন্দোলন’ শুরু করেছে তারা। হাজার হাজার সমর্থকের জমায়েতের পাশাপাশি প্রখ্যাত অভিনেতা নসীরুদ্দীন শাহ, অভিনেত্রী শবানা আজমি ও সঙ্গীত পরিচালক বিশাল দদলানির মতো বলিউড তারকাদের উপস্থিতি এই আন্দোলনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
শিবাজী পার্কে বলি তারকাদের উপস্থিতি
শুক্রবার বিকেলে শিবাজী পার্কের আন্দোলন মঞ্চে উপস্থিত হন বর্ষীয়ান অভিনেতা নসীরুদ্দীন শাহ। মঞ্চে পৌঁছানোর পর সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে তাঁকে মাথা নত করে শ্রদ্ধা জানান এবং নসীরুদ্দীন তাঁকে জড়িয়ে ধরেন। শুধু নসীরুদ্দীন নন, অভিনেত্রী শবানা আজমি ও সঙ্গীত পরিচালক বিশাল দদলানিসহ বিনোদন জগতের একাধিক পরিচিত মুখকে সিজেপি-র মঞ্চে দেখা যায়।
আলটিমেটামের পর ফের পথে সিজেপি
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে গত কয়েক দিন ধরেই লাগাতার কর্মসূচি চালিয়ে আসছে সিজেপি। গত ২৪ সেপ্টেম্বর সিজেপি-র পক্ষ থেকে জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগের জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল। সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকে আগেই ঘোষণা করেছিলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইস্তফা না দিলে ২ অক্টোবর থেকে পুনরায় দেশব্যাপী বৃহত্তর আন্দোলন শুরু হবে।
জ্ঞানেশ কুমার ইস্তফা না দেওয়ায় শুক্রবার বিকেল থেকে পূর্বনির্ধারিত এই কর্মসূচির সূচনা হয়। মঞ্চ থেকে তীব্র সুর চড়িয়ে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীসকে ‘জেলে ভরার’ চ্যালেঞ্জও ছুঁড়ে দেন সিজেপি প্রধান।
পুলিশের অনুমতি মেলেনি, আঁটোসাঁটো নিরাপত্তা
বম্বে হাইকোর্টের ২০১৩ সালের নির্দেশিকার দোহাই দিয়ে শিবাজী পার্কে কোনো ধরনের সমাবেশের অনুমতি দেয়নি মুম্বই পুলিশ। তবে সিজেপি প্রধান দীপকে সাফ জানিয়ে দেন, দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীতে তাঁদের নির্ধারিত আন্দোলন কর্মসূচি হবেই।
দুপুরের পর থেকেই মুম্বইয়ের ট্রেন, বাস ও মেট্রোয় জাতীয় পতাকা, পোস্টার ও প্ল্যাকার্ড হাতে আন্দোলনকারীদের ভিড় বাড়তে থাকে। বিকেল গড়াতেই শিবাজী পার্ক হাজারো মানুষের মিছিলে উত্তাল হয়ে ওঠে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকা জুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে মুম্বই পুলিশ।
কলকাতা ও বেঙ্গালুরুতেও আন্দোলনের পরিকল্পনা, পাল্টা বিক্ষোভ মুম্বইয়ে
সিজেপি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মুম্বইয়ের পর মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ইস্তফার দাবিতে কলকাতা, বেঙ্গালুরু ও গোয়াতেও পর্যায়ক্রমে ‘জেল ভরো’ কর্মসূচি পালিত হবে। চলতি মাসের শেষভাগে দিল্লির যন্তর মন্তরেও বড়সড় আন্দোলনে নামার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। দীপকের বক্তব্য, নিট (NEET) প্রশ্ন ফাঁস কাণ্ডে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে যেমন ধারাবাহিক আন্দোলন চলেছিল, একইভাবে জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই জারি থাকবে।
অন্যদিকে, সিজেপি-র এই কর্মসূচির বিরোধিতা করে মুম্বইয়ের অন্য প্রান্তে ‘জেন নেক্সট মুম্বই’ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে পাল্টা বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়েছে। সেখানে সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকে ও অন্যান্য নেতৃত্বের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়।

