বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০১৯ : দিন, থিম, ইতিহাস এবং কীভাবে পালন করা হয়

Spread the article

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস হল, পৃথিবীর সকলের মানসিক স্বাস্থ্য শিক্ষা ও সচেতনতার দিন। ১৯৯২ সালে এটি প্রথমবার পালন করা হয়। কিছু দেশে একে মানসিক রোগ সচেতনতা সপ্তাহের অংশ হিসেবেও পালন করা হয়। প্রতিবছর ১০ ​​অক্টোবর পালিত হয় বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। এর মূল লক্ষ্য হল, মানুষকে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা সম্পর্কে সচেতন করা এবং শিক্ষিত করা। এবছর অর্থাৎ বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০১৯ সালের থিম হল ‘আত্মহত্যা প্রতিরোধে মনোনিবেশ করুন’।

ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (WHO) এর মতে, প্রতি ৪০ সেকেন্ডের মধ্যে কেউ না কেউ আত্মহত্যার মাধ্য়মে প্রাণ হারান। সুতরাং, এইবছর মূল উদ্দেশ্য হল, বিশ্বজুড়ে আত্মহত্যার হার বৃদ্ধির বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং এটি প্রতিরোধে প্রত্যেককে ভূমিকা নেওয়া। বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের ইতিহাস : ১৯৯২ সালের ১০ ই অক্টোবর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস প্রথম পালিত হয়। তৎকালীন উপ-মহাসচিব রিচার্ড হান্টার-এর সময় ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অফ মেন্টাল হেলথ প্রথম এই দিবস পালন করা শুরু করেছিল। প্রথমে কোনও নির্দিষ্ট থিম ছিল না, সাধারণভাবে এটি মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়ে প্রচার করত। ১৯৯৪ সালে তৎকালীন সেক্রেটারি জেনারেল ইউজিন ব্রোডি একটি থিমের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যা ছিল ‘বিশ্বজুড়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করা’। তিন বছরের মধ্যে, এইদিনটি সরকারী বিভাগ, সংস্থার কাছে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কিত দিকগুলিতে ফোকাস করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ১৯৯৫ সালে, আন্তর্জাতিক ইভেন্টগুলি ব্যাপকভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তারপর থেকেই বিশ্বজুড়ে এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসটি কীভাবে পালন করা হয়? বিশ্বের কিছু দেশে, এই দিবস সংক্রান্ত বিভিন্ন অনুষ্ঠানগুলি বেশ কয়েক দিন বা সপ্তাহ এবং এমনকি কয়েক মাস পর্যন্ত চলে। উদাহরণস্বরূপ, অস্ট্রেলিয়ায় ‘মানসিক স্বাস্থ্য সপ্তাহ’ পালন করা হয়। ১০০-টিরও বেশি দেশে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের অনুষ্ঠান হয়। ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অফ মেন্টাল হেলথ বিশ্বজুড়ে মানুষের কাছে মানসিক স্বাস্থ্যের প্রচার করছে এবং মানসিক অসুস্থতার ধরণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করছে যেটা সম্পর্কে অনেকেই অবগত নন।

এই দিবসের জন্য ব্যবহৃত থিমগুলির তালিকা : ১) ১৯৯৬ সালে মহিলা এবং মানসিক স্বাস্থ্য ২) ১৯৯৭ সালে শিশু এবং মানসিক স্বাস্থ্য ৩) ১৯৯৮ সালে মানসিক স্বাস্থ্য এবং মানবাধিকার ৪) ১৯৯৯ সালে মানসিক স্বাস্থ্য এবং বয়স ৫) ২০০০-২০০১ সালে মানসিক স্বাস্থ্য এবং কর্ম ৬) ২০০২ সালে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের উপর মানসিক আঘাত এবং হিংস্রতার প্রভাব ৭) ২০০৩ সালে শিশু এবং কিশোর-কিশোরীদের মানসিক এবং আচরণগত ব্যাধি ৮) ২০০৪ সালে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের মধ্যে সম্পর্ক: সহ-সংঘটিত ব্যাধি ৯) ২০০৫ সালে সারাজীবন জুড়ে মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্য ১০) ২০০৬ সালে মানসিক অসুস্থতা এবং আত্মহত্যার ঝুঁকি হ্রাস ১১) ২০০৭ সালে পরিবর্তিত বিশ্বে মানসিক স্বাস্থ্য: সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্যের প্রভাব ১২) ২০০৮ সালে মানসিক স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার প্রদান ১৩) ২০০৯ সালে চিকিৎসা বাড়ানো এবং মানসিক স্বাস্থ্যের প্রচার ১৪) ২০১০ সালে মানসিক স্বাস্থ্য এবং দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক অসুস্থতা ১৫) ২০১১ সালে দ্য গ্রেট পুশ: মানসিক স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ ১৬) ২০১২ সালে ডিপ্রেশন: একটি বিশ্ব সংকট ১৭) ২০১৩ সালে মানসিক স্বাস্থ্য এবং প্রাপ্তবয়স্ক ১৮) ২০১৪ সালে সিজোফ্রেনিয়ার সাথে বসবাস করা ১৯) ২০১৫ সালে মানসিক স্বাস্থ্যে গৌরব ২০) ২০১৬ সালে মনস্তাত্ত্বিক এবং মানসিক স্বাস্থ্য প্রাথমিক চিকিৎসা ২১) ২০১৭ সালে কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য ২২) ২০১৮ সালে পরিবর্তিত বিশ্বে তরুণ এবং মানসিক স্বাস্থ্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *