অসমের নলবাড়ি জেলার চাঞ্চল্যকর তরুণ ছাত্রনেতা হত্যা মামলার মূল অভিযুক্ত রোজ় আলি পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। সোমবার (১ জুন) পুলিশি হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করার সময় পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরবর্তীতে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
কয়েক দিন আগে নলবাড়ির মুকালমুয়ার অন্তর্গত গাংপুরে ১৯ বছর বয়সি তরুণ মধুরজ্য বর্মণের ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়। এই ঘটনায় মধুরজ্যর মৃত্যু হয় এবং তাঁর ১৭ বছর বয়সি খুড়তুতো বোন গুরুতর আহত হন। এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরে সমগ্র অসমে তীব্র গণবিক্ষোভ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল।
ঘটনার সূত্রপাত ও অভিযুক্তের গ্রেফতারি
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন মধুরজ্য বর্মণ এবং তাঁর খুড়তুতো বোন রাতে বাড়ি ফেরার সময় আচমকাই ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় মধুরজ্যর মৃত্যু হলে নলবাড়ি আঞ্চলিক ছাত্র সংসদের এই নেতার হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধি পায়।
তদন্তে নেমে নলবাড়ি জেলা পুলিশ ঘটনার মূল অভিযুক্ত রোজ় আলিকে চিহ্নিত করে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রোজ় অপরাধের কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
অস্ত্র উদ্ধারের অভিযান ও এনকাউন্টার
সোমবার ধৃত রোজ় আলিকে সঙ্গে নিয়ে অপরাধে ব্যবহৃত সেই ধারালো ছুরিটি উদ্ধার করতে গাংপুরের একটি নির্দিষ্ট এলাকায় অভিযানে নামে পুলিশ। যেখানে অস্ত্রটি লুকিয়ে রাখা ছিল, সেখানে পৌঁছানোর পরেই পরিস্থিতি অন্য মোড় নেয়।
পুলিশের অভিযোগ, তল্লাশি অভিযান চলাকালীন রোজ় আলি আচমকাই পুলিশ কর্মীদের ধাক্কা দিয়ে হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাঁকে থামানোর চেষ্টা করলে দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। অভিযুক্তকে বাগে আনতে এবং আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালাতে বাধ্য হয়। পুলিশের গুলিতে রোজ় গুরুতর জখম হলে তাঁকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়, তবে সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
হামলার নেপথ্যে কী কারণ?
নিহত মধুরজ্য বর্মণ নলবাড়ি আঞ্চলিক ছাত্র সংসদের একজন প্রথম সারির তরুণ নেতা ছিলেন। ফলে এই হামলার পেছনে কোনও রাজনৈতিক বা অন্য কোনও গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছিল পুলিশ।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, আহত ১৭ বছর বয়সি কিশোরীর সঙ্গে জোরপূর্বক প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন রোজ় আলি। সেই সম্পর্কের টানাপড়েন এবং কিশোরীর প্রত্যাখ্যানের জেরেই এই নৃশংস আক্রমণ চালানো হয়েছিল বলে প্রাথমিক অনুমান। পুলিশ জানিয়েছে, মূল অভিযুক্তের মৃত্যু হলেও ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনও সূত্র বা প্ররোচনা ছিল কি না, তা নিশ্চিত করতে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত জারি রাখা হয়েছে।

