নির্বাচনী প্রচারের ময়দানে নেমে বরাবরের মতোই আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দিলেন বিজেপি নেতা তথা খড়্গপুর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী দিলীপ ঘোষ। শুক্রবার সকালে খড়্গপুরের তালবাগিচা এলাকায় ‘চা-চক্র’ এবং পরবর্তীতে একটি পথসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেস এবং রাজ্য সরকারের কড়া সমালোচনা করেন তিনি। উন্নয়নের খতিয়ান থেকে শুরু করে নিয়োগ দুর্নীতি— একাধিক ইস্যুতে শাসকদলকে বিঁধেছেন মেদিনীপুরের এই দাপুটে নেতা।
পরিকাঠামো ও মোহনপুর ব্রিজ নিয়ে তোপ
পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করেন, খড়্গপুরে পুরসভা এবং রাজ্যে সরকার তৃণমূলের হওয়া সত্ত্বেও উন্নয়নের ছিটেফোঁটা ছোঁয়া লাগেনি এই শহরে। তাঁর কথায়, “ওদের কাজের একমাত্র লক্ষ্য হলো লুটপাট। একটা রাস্তাও ঠিকমতো তৈরি করতে পারে না এরা। রাজ্যে একের পর এক ব্রিজ ভেঙে পড়ছে। খড়্গপুরের মোহনপুর ব্রিজ যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে বলে খোদ সরকারি ইঞ্জিনিয়াররাই জানিয়েছেন। অথচ প্রশাসন কোনো উদ্যোগ নেয়নি।”
তিনি আরও দাবি করেন, কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ির সঙ্গে কথা বলে তিনি নিজে অর্থ বরাদ্দ করিয়ে ব্রিজের কাজ শুরু করেছেন। কিন্তু সেখানেও তৃণমূল নেতারা কৃতিত্ব নিতে ‘নারকেল ফাটাতে’ পৌঁছে যাচ্ছেন বলে কটাক্ষ করেন তিনি।
শিল্প ও কর্মসংস্থান নিয়ে সমালোচনা
রাজ্যের শিল্প পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে কোনো শিল্প হতে দেয় না এই সরকার। শিল্পপতিরা ভয় পেয়ে পাশের রাজ্যে গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছেন। সেখানে শিল্পপতিদের সমস্যায় মুখ্যমন্ত্রী পাশে দাঁড়ান, আর এখানে নেতা-মন্ত্রীরা ছোটেন শিল্পপতিদের লুট করার জন্য।” তিনি আরও যোগ করেন, এ রাজ্যের মানুষকে সামান্য চিকিৎসা বা কাজের সন্ধানেও ভিন রাজ্যে যেতে হচ্ছে, যা সরকারের ব্যর্থতার পরিচয়।
বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি
ক্ষমতায় এলে বিজেপি কী কী পদক্ষেপ নেবে, তার একটি রূপরেখা এদিন কর্মীদের সামনে তুলে ধরেন দিলীপ ঘোষ। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন:
- বকেয়া ডিএ: ক্ষমতায় আসার দেড় মাসের মধ্যে সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ (DA) মেটানো হবে।
- বেতন বৃদ্ধি ও নিয়োগ: সরকারি কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি এবং স্বচ্ছভাবে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ করা হবে।
- চাকরিপ্রার্থীদের সুযোগ: যাঁদের চাকরি বর্তমান সরকারের আমলে গিয়েছে, তাঁদের বয়সের ক্ষেত্রে ৫ বছরের শিথিলতা দিয়ে পুনরায় নিয়োগের সুযোগ দেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে খোঁচা
এদিন বক্তব্যের শেষে তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে তাঁর এক পুরনো সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করে দিলীপ বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে একবার দেখা হয়েছিল, আমাকে দেখে ওঁর মুখে হাসি ফুটেছিল। কিন্তু নিজের দলের কর্মীদের দেখলে ওঁর মুখ শুকিয়ে যায়।”
খড়্গপুরের এই পথসভাকে কেন্দ্র করে বিজেপি কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা লক্ষ্য করা গিয়েছে। দিলীপ ঘোষের এই কড়া বার্তার পর তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

