ভারতীয় জ্ঞানব্যবস্থা (IKS) এবং আধুনিক প্রযুক্তির মধ্যে সেতুবন্ধন গড়তে এক অনন্য উদ্যোগ নিল ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (আইআইটি), ভুবনেশ্বর। বৃহস্পতিবার কলকাতার প্রসিদ্ধ ‘ভক্তি বেদান্ত রিসার্চ সেন্টার’ (বিআরসি)-এর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করল এই কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো দর্শন, ডিজিটাল হিউম্যানিটিজ এবং আন্তঃবিভাগীয় গবেষণার ক্ষেত্রে অ্যাকাডেমিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।
চুক্তির স্বাক্ষর ও উপস্থিতিবর্গ
আইআইটি ভুবনেশ্বরের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন স্পনসর্ড রিসার্চ অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল কনসালটেন্সি বিভাগের ডিন অধ্যাপক দিনকর পাসলা। অন্যদিকে বিআরসি-র পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাডেমিক ডিন তথা ট্রাস্টি ড: সুমন্ত রুদ্র। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ড: অক্ষয় কুমার রথ, ড: নরেশ চন্দ্র সাহু এবং ডেপুটি রেজিস্ট্রার প্রদীপ কুমার সাহু।
সহযোগিতার প্রধান ক্ষেত্রসমূহ
এই সমঝোতা স্মারকের অধীনে উভয় প্রতিষ্ঠান শিক্ষা ও গবেষণার প্রসারে একাধিক যৌথ কর্মসূচি গ্রহণ করবে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- সম্মেলন ও কর্মশালা: যৌথভাবে সেমিনার, বিশেষজ্ঞ বক্তৃতামালা এবং জনসংযোগমূলক কর্মসূচি আয়োজন।
- আন্তঃবিভাগীয় গবেষণা: মানববিদ্যা, সমাজবিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির সমন্বয়ে উন্নতমানের গবেষণা প্রকল্প ও প্রকাশনা।
- ডিজিটাল হিউম্যানিটিজ: প্রাচীন পাণ্ডুলিপি গবেষণার উন্নয়ন, টেক্সট বিশ্লেষণ এবং ডিজিটাল রিপোজিটরি বা তথ্যভাণ্ডার তৈরি।
কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষণ
এই অংশীদারিত্বকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন উভয় প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা। অধ্যাপক দিনকর পাসলা তাঁর বক্তব্যে জানান, “এই সহযোগিতা আমাদের সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষ করে ভারতীয় জ্ঞানপ্রথা, নীতিশাস্ত্র এবং সভ্যতাগত অধ্যয়ন নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনাকে এটি এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।”
বিআরসি-র ডিন ড: সুমন্ত রুদ্র বলেন, “এই অংশীদারিত্ব ভারতীয় জ্ঞানব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি প্রাচীন প্রজ্ঞা ও আধুনিক অ্যাকাডেমিক কাঠামোর মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করবে। আমরা যৌথভাবে ভবিষ্যতে বড় ধরনের অবদান রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
তাৎপর্য
বিশেষজ্ঞদের মতে, আইআইটি ভুবনেশ্বরের মতো একটি কারিগরি প্রতিষ্ঠানের এই উদ্যোগ সাংস্কৃতিক গবেষণা এবং আন্তঃবিভাগীয় উৎকর্ষের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতাকে আরও সুদৃঢ় করল। ডিজিটাল হিউম্যানিটিজ এবং ডিজিটাইজেশনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ায় বিলুপ্তপ্রায় পাণ্ডুলিপি ও প্রাচীন তথ্য সংরক্ষণে এই চুক্তি এক মাইলফলক হয়ে থাকবে।

