পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে তুলল নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে নবনিযুক্ত জেলা শাসক (DM), পুলিশ সুপার (SP) এবং পুলিশ কমিশনারদের (CP) অবিলম্বে নিজেদের দায়িত্বভার গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বদলি হওয়া আধিকারিকদের লজিস্টিক ব্যবস্থা এবং বাংলো দ্রুত নিয়ন্ত্রণে নিতে হবে।
লজিস্টিক হস্তান্তরের গেরো ও কমিশনের কড়া অবস্থান
কমিশন সূত্রে খবর, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে বিদায়ী আধিকারিকরা বাংলো ছাড়তে বা লজিস্টিক হস্তান্তরে দেরি করছেন। এই প্রক্রিয়াতে যাতে কোনোভাবেই ‘ইচ্ছাকৃত বিলম্ব’ না ঘটে, সেদিকে কড়া নজর দেওয়া হয়েছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনার স্বার্থে নতুন আধিকারিকদের দ্রুত পরিকাঠামো প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনের ‘পাখি পড়া’: কমিশনের ৬ মূল লক্ষ্য
বৈঠকে উপস্থিত আধিকারিকদের সামনে নির্বাচন কমিশন আগামী ভোটের জন্য ছয়টি প্রধান স্তম্ভ বা লক্ষ্য স্থির করে দিয়েছে। এই লক্ষ্যগুলি পূরণে প্রশাসনকে স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে:
- বুথ দখল ও ভোট দানে বাধা রোধ: কোনো অবস্থাতেই বুথ দখল বা ভোটারদের ভোটদানে বাধা দেওয়া চলবে না।
- অশান্তিমুক্ত নির্বাচন: সম্পূর্ণ হিংসামুক্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করা।
- প্রভাবমুক্ত ভোট: কোনো রাজনৈতিক বা বাহ্যিক প্রভাব ছাড়াই ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।
- ভয়মুক্ত পরিবেশ: সাধারণ ভোটারদের মনে আত্মবিশ্বাস জাগানো এবং ভয়মুক্ত পরিবেশ তৈরি করা।
- পথ অবরোধ ও গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ: ভোটারদের বুথে যাওয়ার রাস্তা আটকানো বা তাঁদের বেরোতে বাধা দেওয়া কঠোরভাবে দমন করা।
- ভীতি প্রদর্শন বন্ধ: ভোটারদের ভয় দেখিয়ে বুথে যাওয়া থেকে বিরত রাখা রুখতে কড়া পদক্ষেপ।
বঙ্গ সফরে ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে আগামী ২৫ ও ২৬ তারিখ দু’দিনের সফরে পশ্চিমবঙ্গ আসছেন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী।
- বৈঠক সূচি: সফরকালে তিনি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করবেন।
- তাৎপর্য: ইতিপূর্বে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে কমিশনের ফুল বেঞ্চ কলকাতা ঘুরে যাওয়ার পরই ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করা হয়েছিল। এবার ডেপুটি কমিশনারের এই সফর প্রস্তুতির ফাঁকফোকর খতিয়ে দেখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে অভিজ্ঞ মহল।
রাজ্যের আসন্ন দুই দফার নির্বাচনের আগে আমলা ও পুলিশ মহলে এই ব্যাপক রদবদল এবং কমিশনের কঠোর নির্দেশিকা নিরপেক্ষ নির্বাচন সুনিশ্চিত করার পথেই বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

