প্রকৃতির খামখেয়ালিপনায় কার্যত ওলটপালট দেশের আবহাওয়া। মার্চ মাসের তৃতীয় সপ্তাহে যেখানে দাবদাহ শুরু হওয়ার কথা, সেখানে অকাল বৃষ্টি আর ঝোড়ো হাওয়ায় দেশজুড়ে বইছে কনকনে ঠান্ডার আমেজ। উত্তর থেকে দক্ষিণ—দেশজুড়ে আবহাওয়ার এই বিপজ্জনক পরিবর্তনে বিপর্যস্ত জনজীবন। পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর দিল্লি-এনসিআর (Delhi-NCR) এলাকায় ‘হলুদ সতর্কতা’ (Yellow Alert) জারি করেছে মৌসম ভবন।
পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ও প্রাক-বর্ষার দ্বৈত প্রভাব
আবহাওয়াবিদদের মতে, সক্রিয় পশ্চিমী ঝঞ্ঝা এবং প্রাক-বর্ষার (Pre-monsoon) প্রভাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কোথাও ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি হচ্ছে, আবার কোথাও দাপট দেখাচ্ছে শিলাবৃষ্টি।
- কৃষিতে ক্ষয়ক্ষতি: রাজস্থান, কর্ণাটক এবং কেরালায় প্রবল শিলাবৃষ্টির জেরে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মাথায় হাত পড়েছে কৃষকদের।
- পূর্ব ভারতে সতর্কতা: পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ প্রবল ঝড়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই রাজ্যগুলিতেও জারি হয়েছে বিশেষ সতর্কতা।
দিল্লির তাপমাত্রায় নাটকীয় পতন
মার্চের শুরুতেই যেখানে ৩৫-৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় নাজেহাল হচ্ছিলেন দিল্লিবাসী, সেখানে লাগাতার বৃষ্টিতে পারদ এক ধাক্কায় নেমে এসেছে ২৫-২৬ ডিগ্রিতে।
- প্রভাবিত এলাকা: দিল্লির নরেলা, বাওয়ানা, বুরারি এবং রোহিনী-সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
- প্রতিবেশী রাজ্য: হরিয়ানার যমুনানগর, পানিপথ, সোনিপথ, খরখোদা, কুরুক্ষেত্র এবং কার্নালের মতো এলাকাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
যান চলাচল ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি
টানা বৃষ্টিতে রাস্তা পিচ্ছিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় সড়কপথে যান চলাচল ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকায় গাড়িচালকদের সাবধানে যাতায়াতের পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। অন্যদিকে, তাপমাত্রার এই আকস্মিক ওঠানামায় জ্বর-সর্দি সহ বিভিন্ন মরসুমি রোগের প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা।
আবহাওয়া দফতরের মতে, আগামী কয়েক দিন আবহাওয়া এমনই খামখেয়ালি থাকতে পারে। আকাশ মেঘলা থাকার পাশাপাশি বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

