সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক মামলার ম্যারাথন শুনানি: কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সওয়ালে রুষ্ট বিচারপতি, পরবর্তী শুনানি ১৪ এপ্রিল

সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক মামলার ম্যারাথন শুনানি: কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সওয়ালে রুষ্ট বিচারপতি, পরবর্তী শুনানি ১৪ এপ্রিল

সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক (I-PAC) মামলার শুনানি ঘিরে মঙ্গলবার দিনভর টানটান উত্তেজনা বজায় থাকল। শুনানির এক পর্যায়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সওয়ালে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি মিশ্র। এদিন ইডি-র ভূমিকা এবং তদন্তের যৌক্তিকতা নিয়ে সওয়াল-জবাব চললেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি শীর্ষ আদালত। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ১৪ এপ্রিল

বিচারপতির ভর্ৎসনার মুখে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

এদিন শুনানির সময় আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বহু বছর আগের একটি জমি সংক্রান্ত মামলার উদাহরণ টেনে বলেন, নির্বাচনের সময় আদালতের এই ধরনের মামলা থেকে দূরে থাকা উচিত। তাঁর এই মন্তব্যে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান বিচারপতি মিশ্র। তিনি সাফ জানান:

“আমরা নির্বাচনকেও দূরে রাখব, আবার অপরাধীদেরও। নির্বাচন আমাদের কাছে সময় নির্ধারণের মাপকাঠি নয়। আদালতের সময় নিয়ে আপনি কথা বলতে পারেন না। আমরা আপনাকে এই ধরনের কথা বলার অনুমতি দিতে পারি না।”

এমনকি বফর্স মামলার প্রসঙ্গ উঠলে বিচারপতি প্রশ্ন করেন, “প্রতিপক্ষকে বুলডোজ করার জন্য কি আপনার বফর্স লাগবে?”

ইডি-র ক্ষমতা ও রাজীব কুমারের পক্ষে সিঙ্ঘভি

মুখ্যমন্ত্রীর অন্য এক আইনজীবী কপিল সিব্বল সওয়াল করেন যে, ইডি নিজে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী সংস্থা, তারা নিজেদের ‘অসহায়’ দাবি করতে পারে না। এর প্রেক্ষিতে বিচারপতি প্রশ্ন করেন, “আপনার মতে কি ইডি অসহায় বা বঞ্চিত নয়?” সিব্বল আরও বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো অভিযোগকে ধ্রুব সত্য ধরে নিয়ে আদালতের রিট পিটিশন গ্রহণ করা উচিত নয়।

অন্যদিকে, এই মামলায় রাজ্য পুলিশের তৎকালীন ডিজি রাজীব কুমারকেও পক্ষ (পার্টি) করেছিল ইডি। তাঁর হয়ে এদিন আদালতে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি।

আদালতের নিরপেক্ষ অবস্থান

ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে বিচারপতি মিশ্র কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি কাল্পনিক পরিস্থিতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, “ধরুন ২০৩০ বা ২০৩১ সালে অন্য কোনো দল রাজ্যে ক্ষমতায় এল এবং আপনাদের দল কেন্দ্রে থাকল, তখন আপনাদের প্রতিক্রিয়া কী হবে?”

শুনানি শেষে বিচারপতি মিশ্র স্পষ্ট করে দেন যে, আদালত কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলকে জেতাতে চায় না, আবার কোনো অপরাধ বা অন্যায়ের অংশীদারও হতে চায় না। আপাতত ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত এই মামলার প্রক্রিয়া স্থগিত রইল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.