মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্তরবঙ্গ সফরের মধ্যেই এক নাবালিকার অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল শিলিগুড়ি। গৃহশিক্ষকের লালসার শিকার হয়ে নাবালিকার আত্মহত্যার অভিযোগে মঙ্গলবার দিনভর চলল বিক্ষোভ, পথঅবরোধ এবং রাজনৈতিক চাপানউতোর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হয় প্রশাসনকে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও অভিযোগ
শিলিগুড়ির ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ওই নাবালিকার পরিবারের অভিযোগ, তাদের গৃহশিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। অভিযুক্ত গৃহশিক্ষক বিবাহিত এবং দুই সন্তানের বাবা হওয়া সত্ত্বেও ওই নাবালিকাকে লাগাতার মানসিক চাপ দিচ্ছিলেন বলে দাবি পরিবারের। অভিযোগ, সেই চাপ সহ্য করতে না পেরেই মঙ্গলবার বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে কিশোরীটি।
জনরোষ ও পুলিশের দিকে ‘চুড়ি’ নিক্ষেপ
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। শিলিগুড়ির জংশন এলাকায় শুরু হয় পথঅবরোধ। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে নিরাপত্তারক্ষীদের লক্ষ্য করে ‘চুড়ি’ ছুড়ে দেন। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্যরা এসডিও (SDO) অফিস অভিযান করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। দফায় দফায় রাস্তা অবরোধ চলায় শিলিগুড়ির স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
রাজপথে রাজনৈতিক সংঘাত
নির্বাচনী আবহে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে বাগযুদ্ধ চরমে পৌঁছেছে:
- বিজেপির অবস্থান: শিলিগুড়ির বিধায়ক তথা বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর ঘোষ ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে জংশন এলাকায় ধর্নায় বসেন। তিনি সরাসরি পুলিশমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে বলেন, “পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই অভিযুক্ত ফেরার। তদন্তে গাফিলতি আমরা মানব না।” দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ধর্না চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
- তৃণমূলের অবস্থান: শিলিগুড়ির মেয়র তথা তৃণমূল প্রার্থী গৌতম ঘোষ মৃতার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের পাশে দাঁড়ান। তিনি ঘটনাস্থল থেকেই পুলিশ কমিশনারকে ফোন করে দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। শঙ্কর ঘোষের ধর্না প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, “এখানে রাজনীতি কাম্য নয়। আমি মেয়রের দায়িত্ব পালন করছি এবং দোষীর কঠোর শাস্তি চাই।”
প্রশাসনের পদক্ষেপ
এলাকায় উত্তেজনা বাড়তে থাকায় এবং পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় ধস্তাধস্তির জেরে শান্তি বজায় রাখতে এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী নামানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চলছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর সফরের মাঝেই এই ঘটনা শিলিগুড়ির আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে বড়সড় বিতর্ক তৈরি করেছে।

