ইউপিএসসির থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত! নিটের প্রশ্নফাঁসে সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্নের মুখে এনটিএ! কী জানাল কেন্দ্র

ইউপিএসসির থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত! নিটের প্রশ্নফাঁসে সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্নের মুখে এনটিএ! কী জানাল কেন্দ্র

সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট-ইউজি’ (NEET-UG)-র প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আয়োজক সংস্থা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-কে তীব্র ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট। কঠোর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং তদারকি কমিটি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে বারবার এই ধরনের ‘ভুল’ হচ্ছে, তা নিয়ে দেশের শীর্ষ আদালত চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে আদালতের তাৎপর্যপূর্ণ পরামর্শ, ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (UPSC)-এর মতো মর্যাদাপূর্ণ পরীক্ষায় কখনও এই ধরনের প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটে না। এনটিএ-র উচিত ইউপিএসসি-র থেকে শিক্ষা নেওয়া।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালেও নিট পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় হয়েছিল। সেই সময় সংস্থায় একাধিক বদল আনার নির্দেশ দেওয়া হলেও, দু’বছর যেতে না যেতেই ২০২৬ সালেও আবারও নিট পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটায় এনটিএ-র ভূমিকা এখন সম্পূর্ণ আতশকাচের নীচে।

ইসরোর প্রাক্তন প্রধানের কমিটির সুপারিশ ও আদালতের প্রশ্ন

শুক্রবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে জানান, পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ISRO)-র প্রাক্তন চেয়ারম্যান কে রাধাকৃষ্ণণের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

শুনানি চলাকালীন বিচারপতি পি এস নরসিংহ জানতে চান, কমিটির সুপারিশের পর নিট পরীক্ষায় ঠিক কী পরিমাণ নজরদারি চালানো হয়েছিল? প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে অতীতে কমিটি যে সুপারিশ করেছিল, তা বাস্তবে কতটা কার্যকর করা হয়েছে?

জবাবে কে রাধাকৃষ্ণণ আদালতকে জানান:

  • পরীক্ষার নিরাপত্তা জোরদার করতে কমিটি মোট ১০১টি সুপারিশ জমা দিয়েছে।
  • এর মধ্যে ৬০টি ছিল স্বল্পমেয়াদি সুপারিশ, যা মূলত ২০২৫-২৬ সালের পরীক্ষায় প্রয়োগ করা হয়েছিল।

“সমস্যার সূত্রপাত প্রশ্নপত্র তৈরির প্রক্রিয়া থেকেই”

এত নজরদারির পরেও কীভাবে প্রশ্ন ফাঁস হলো, আদালতের এই প্রশ্নের জবাবে কে রাধাকৃষ্ণণ স্বীকার করে নেন যে, মূল সমস্যাটি ছিল প্রশ্নপত্র তৈরির প্রক্রিয়াতেই। তবে তিনি সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘‘সমস্যাটি চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। এখন প্রশ্নপত্র তৈরির প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে এবং একটি সুরক্ষিত পরীক্ষা বাস্তবায়ন কাঠামো ইতিমধ্যেই চালু করা হয়েছে। আসন্ন পরীক্ষায় আর এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না।’’

এনটিএ-র এই সংস্কারের দাবির প্রেক্ষিতে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, শুধুমাত্র মুখে সংস্কারের কথা না বলে, সুপারিশগুলি বাস্তবে সঠিকভাবে রূপায়ণ করা জরুরি। তা না হলে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

প্রধানমন্ত্রী মোদীর ব্যক্তিগত তদারকি, কেন্দ্রকে হলফনামার নির্দেশ

শুনানিতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান, প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চলছে। আগামী ২১ জুন পুনরায় নিট পরীক্ষা নেওয়ার আগে একাধিক নতুন ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, সর্বোচ্চ নির্বাহী পর্যায় থেকে পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ব্যক্তিগতভাবে এই গোটা বিষয়ের তদারকি করছেন।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ: শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করেছে যে, এই জবাবদিহিতার অর্থ কারও ওপর দোষ চাপানো নয়, বরং এই বিশাল অঘটনের দায় কার ওপর বর্তায়, সে বিষয়ে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। আদালত জোর দিয়ে বলেছে, যখনই কোনও প্রতিষ্ঠান সংকটে পড়ে, তখন সাময়িক ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে একটি স্থায়ী ও নিশ্ছিদ্র কাঠামো তৈরি করা উচিত। এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে একটি বিস্তারিত হলফনামা (Affidavit) দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.