গত দশ দিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সোমবার রাতে বড়সড় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটল কলকাতায়। মধ্য কলকাতার প্রভাবশালী কংগ্রেস নেতা তথা কলকাতা পুরসভার কয়েক দশকের বর্ষীয়ান কাউন্সিলর সন্তোষ পাঠক আনুষ্ঠানিক ভাবে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগদান করলেন। লোকসভা নির্বাচনের মুখে তাঁর এই দলবদল কলকাতার রাজনৈতিক সমীকরণে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
বর্ণাঢ্য যোগদান কর্মসূচি
সোমবার রাতে রাজ্য বিজেপির বিধাননগর দপ্তরে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য উত্তরীয় পরিয়ে এবং দলীয় পতাকা হাতে দিয়ে সন্তোষ পাঠককে স্বাগত জানান। এই সময় উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায়, কেন্দ্রীয় নেতা বিপ্লব দেব এবং অমিত মালব্য।
তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ, কংগ্রেস নিয়ে মৌনতা
বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরেই সন্তোষ পাঠক সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি গুরুতর অভিযোগ করেন:
- তাঁর নিজের ওয়ার্ডে (৪৫ নম্বর ওয়ার্ড) পাঁচজন আইপিএস আধিকারিকের নেতৃত্বে তৃণমূল বুথে ঢুকে ‘ছাপ্পা ভোট’ দিয়েছিল।
- আসন্ন নির্বাচনে মোদীজির নেতৃত্বে এই ‘পিসি-ভাইপোর সরকার’ বিদায় নেবে বলে তিনি দাবি করেন।
- ভোট লুটের রাজনীতি রুখে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
তবে কয়েক দশকের পুরনো দল কংগ্রেস বা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী সম্পর্কে কোনো কটু মন্তব্য করতে চাননি তিনি। বরং অধীর চৌধুরীকে ‘ভালো নেতা’ বলে অভিহিত করেন। এই নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করতে চাইলে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ঢাল হয়ে দাঁড়ান এবং বলেন, “কংগ্রেস এখন ওঁর কাছে অতীত, এই সংক্রান্ত প্রশ্ন আমাদের করুন।”
প্রার্থী পদ নিয়ে জল্পনা
গত ১৪ মার্চ ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রীর জনসভাতেই সন্তোষ পাঠকের যোগদানের কথা ছিল, তবে শেষ মুহূর্তে তা পিছিয়ে যায়। অবশেষে সোমবার সেই জল্পনা বাস্তবায়িত হলো। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, আগামী নির্বাচনে চৌরঙ্গি বিধানসভা আসন থেকে বিজেপির প্রার্থী হতে পারেন এই দাপুটে কাউন্সিলর। যদিও সরাসরি উত্তর এড়িয়ে সন্তোষ জানিয়েছেন, “দলই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।”
তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিজেপিই এখন একমাত্র বিকল্প প্ল্যাটফর্ম— দলবদল শেষে এমন বার্তাই দিতে চেয়েছেন মধ্য কলকাতার এই অভিজ্ঞ রাজনীতিক।

