বালিগঞ্জে দোল উৎসবের মঞ্চে বিতর্কিত মন্তব্য: শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের বাম যুব সংগঠনের

বালিগঞ্জে দোল উৎসবের মঞ্চে বিতর্কিত মন্তব্য: শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের বাম যুব সংগঠনের

দোল পূর্ণিমার সকালে দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জ এলাকায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজ্য রাজনীতি। সংবিধান বিরোধী ও উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখার অভিযোগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে বালিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করল সিপিআইএমের যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই (DYFI)।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

মঙ্গলবার সকালে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত শরৎ বোস রোডে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে উপস্থিত জনতাকে দোলের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “নাস্তিকতা নিপাত যাক। সেকুলারিজ়ম নিপাত যাক। হিন্দুরা যাতে পশ্চিমবঙ্গে সুরক্ষিত থাকে এই প্রার্থনা করব।” বক্তব্যের শেষে তিনি ‘গোরা গোরা গৌরাঙ্গ’ গান গাওয়ার পাশাপাশি ‘হিন্দু-হিন্দু ভাই-ভাই’ স্লোগানও তোলেন।

আইনি পদক্ষেপ ও অভিযোগকারীর বক্তব্য

শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্য ঘিরেই বিতর্কের সূত্রপাত। ডিওয়াইএফআই-এর রাজ্য কমিটির নেতা সৈনিক শূর বালিগঞ্জ থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের করার পর সংবাদমাধ্যমকে জানান:

  • সংবিধান লঙ্ঘন: বিরোধী দলনেতার এই মন্তব্য দেশের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোর পরিপন্থী এবং সরাসরি সংবিধানকে আঘাত করে।
  • সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা: একটি ধর্মীয় মঞ্চ থেকে ‘সেকুলারিজম’ বা ধর্মনিরপেক্ষতা নিপাত যাক বলা অত্যন্ত ঘৃণ্য এবং এটি সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে।
  • ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ: বালিগঞ্জ থানার পাশাপাশি কলকাতা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের কাছেও এই বিষয়ে আরও অভিযোগ জানানো হবে বলে তিনি জানান।

বিজেপির পাল্টা প্রতিক্রিয়া

এই অভিযোগকে আমল দিতে নারাজ গেরুয়া শিবির। দক্ষিণ কলকাতা জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রজিত খটিক পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “সিপিএম রাজ্যে প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে। সংবাদমাধ্যমে টিকে থাকার জন্যই তারা বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধে এই ধরণের পরিকল্পিত অভিযোগ করছে।” তাঁর দাবি, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি যে লড়াই চালাচ্ছে, তাতে বামপন্থীরা আতঙ্কিত হয়েই এই পথ বেছে নিয়েছে। আগামী নির্বাচনেও বামেরা ‘শূন্য’ থাকবে বলে তিনি কটাক্ষ করেন।

রাজনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ বনাম ‘হিন্দুত্ব’—এই মেরুকরণের রাজনীতি ফের একবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। একদিকে শুভেন্দু অধিকারী যখন নিজের বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছেন, অন্যদিকে বামেরা একে আইনি লড়াইয়ে নিয়ে গিয়ে জনমানসে প্রভাব ফেলতে চাইছে। প্রশাসনের ভূমিকা এবং এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.