মধ্যপ্রদেশ রাজ্যসভা নির্বাচন: সুপ্রিম কোর্টের শুনানির আগেই বিজেপির ৩ প্রার্থীকে ‘বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী’ ঘোষণা কমিশনের

মধ্যপ্রদেশ রাজ্যসভা নির্বাচন: সুপ্রিম কোর্টের শুনানির আগেই বিজেপির ৩ প্রার্থীকে ‘বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী’ ঘোষণা কমিশনের

মধ্যপ্রদেশে রাজ্যসভার প্রার্থিপদ বাতিলের বিরুদ্ধে কংগ্রেস নেত্রী মীনাক্ষী নটরাজনের সুপ্রিম কোর্টে আবেদনের মাঝেই নাটকীয় মোড়। শীর্ষ আদালতের নির্দেশের অপেক্ষা না করেই বৃহস্পতিবার তড়িঘড়ি বিজেপির তিন প্রার্থী— তরুণ চুঘ, রজনীশ অগ্রবাল এবং মহেশ কেওয়াটকে ‘বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী’ ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন। এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রদেশের তিনটি রাজ্যসভা আসনের নির্বাচন প্রক্রিয়া ভোটগ্রহণের আগেই সমাপ্ত হলো, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

হলফনামা বিতর্কে মীনাক্ষী নটরাজনের মনোনয়ন বাতিল

মধ্যপ্রদেশ থেকে মীনাক্ষী নটরাজনকে রাজ্যসভায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কংগ্রেস। কিন্তু মঙ্গলবার তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেন দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং অফিসার। বিজেপির অভিযোগ ছিল, মীনাক্ষী তাঁর নির্বাচনী হলফনামায় একটি ফৌজদারি মামলার তথ্য গোপন করেছেন।

যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন মীনাক্ষী। এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদল দাবি করে:

  • মীনাক্ষী নটরাজনের বিরুদ্ধে বাস্তবে কোনও ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন নেই।
  • একটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে আদালত তাঁকে শুধুমাত্র একটি নোটিস পাঠিয়েছিল, যা ফৌজদারি মামলার পরিধির মধ্যে পড়ে না।
  • রিটার্নিং অফিসারের মনোনয়ন বাতিলের এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অবৈধ।

কংগ্রেসের এই যুক্তি কমিশন আমল না দেওয়ায়, বৃহস্পতিবারই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন মীনাক্ষী। তিনি মনোনয়ন বাতিলের পদ্ধতিকে চ্যালেঞ্জ করার পাশাপাশি শীর্ষ আদালতে দ্রুত শুনানির আর্জি জানান। কিন্তু সেই শুনানির আগেই জয়ী প্রার্থীর শংসাপত্র জারি করে দেয় কমিশন।

কমিশনের জোড়া নীতি নিয়ে প্রশ্ন

কংগ্রেস এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দলটির পক্ষ থেকে উদাহরণ দেওয়া হয়েছে যে, ঝাড়খণ্ডে রাজ্যসভা নির্বাচনে বিজেপি সমর্থিত নির্দল প্রার্থী পরিমল নাথওয়ানির বিরুদ্ধেও নির্বাচনী হলফনামায় তথ্য গোপনের একই ধরণের অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু সেই ক্ষেত্রে পরিমলের মনোনয়ন বাতিল করেনি কমিশন। মধ্যপ্রদেশের ক্ষেত্রে তড়িঘড়ি এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় কমিশনের ‘দ্বিমুখী নীতি’ প্রকাশ পেয়েছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের।

পরিষদীয় পাটিগণিত ও কংগ্রেসের আশঙ্কা

২৩০ আসন বিশিষ্ট মধ্যপ্রদেশ বিধানসভার বর্তমান দলীয় অবস্থান ও সমীকরণ নিম্নরূপ ছিল:

  • শাসক দল (বিজেপি): ১৬৩ জন বিধায়ক
  • প্রধান বিরোধী দল (কংগ্রেস): ৬৬ জন বিধায়ক
  • মোট রাজ্যসভা আসন: ৩টি
  • ভোটের তারিখ (নির্ধারিত ছিল): ১৮ জুন
  • জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কোটা: ন্যূনতম ৫৮টি প্রথম পছন্দের ভোট

বিধানসভার এই সংখ্যারীতি অনুযায়ী, বিজেপির দুটি এবং কংগ্রেসের একটি আসনে জয় নিশ্চিত ছিল। কিন্তু কংগ্রেস একটি আসনে প্রার্থী দিলেও বিজেপি তিনটি আসনেই প্রার্থী মনোনয়ন করে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল যে, হরিয়ানা ও হিমাচল প্রদেশের মতোই মধ্যপ্রদেশেও ঘুরপথে কংগ্রেসের আসনটি কেড়ে নেওয়ার ছক কষছে বিজেপি। মীনাক্ষী নটরাজনের মনোনয়ন বাতিলের পর বিজেপির তৃতীয় প্রার্থীর জয়ের মাধ্যমে কংগ্রেসের সেই আশঙ্কাই বাস্তব রূপ নিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.