ওমান উপকূলে ভারতীয় জাহাজে হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ, মার্কিন কূটনীতিককে তলব নয়াদিল্লির

ওমান উপকূলে ভারতীয় জাহাজে হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ, মার্কিন কূটনীতিককে তলব নয়াদিল্লির

ওমান উপকূলে ভারতীয় কর্মী বহনকারী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারত সরকার। ঘটনার প্রতিবাদে ভারতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক জেসন মিক্‌সকে তলব করেছে বিদেশ মন্ত্রক। বুধবার এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করে কেন্দ্র।

বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, হামলার শিকার হওয়া বাণিজ্যিক জাহাজ ‘সেট্টেবেলো’-তে মোট ২৪ জন ভারতীয় কর্মী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২১ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে এখনও তিন জন নিখোঁজ রয়েছেন। পরিস্থিতির উপর ওমানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস নিবিড় নজর রাখছে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিবৃতিতে ভারত সরকার জানায়, “ওমান উপকূলে বাণিজ্যিক জাহাজ সেট্টেবেলোর উপর হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। জাহাজে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।”

পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে বাড়তে থাকা সংঘাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিদেশ মন্ত্রক। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরেই সমুদ্রপথে এ ধরনের হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ভারত পুনরায় উত্তেজনা প্রশমন এবং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি ওই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগেও ওমান উপকূলে একটি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ হামলার শিকার হয়েছিল এবং সেটি ডুবে যায়। সাম্প্রতিক ঘটনার প্রেক্ষিতে বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, বাণিজ্যিক জাহাজ ও অসামরিক পরিকাঠামোর উপর হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। আন্তর্জাতিক আইন মেনে আন্তর্জাতিক জলপথে স্বাধীন ও বাধাহীন নৌচলাচল নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছে ভারত।

গত কয়েক দিনে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে প্রত্যক্ষ সংঘাত ফের শুরু হয়েছে। প্রথমদিকে সংযমের বার্তা দিলেও, হরমুজ প্রণালীর নিকটে একটি মার্কিন হেলিকপ্টার ভেঙে পড়ার ঘটনার পর উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। ওই হেলিকপ্টারের উপর হামলার অভিযোগ ইরানের বিরুদ্ধে তোলা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মার্কিন বাহিনী ইরানে হামলা চালায়। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তেহরানও পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালায়।

এদিকে বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump মন্তব্য করেছেন যে, ইরান সমঝোতার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সময় নিয়েছে এবং এর জন্য তাদের মূল্য চোকাতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.