উৎসবের রঙে যখন মেতেছে দেশ, ঠিক তখনই আকাশজুড়ে চলল প্রকৃতির এক বিরল খেলা। মঙ্গলবার দোল পূর্ণিমার সন্ধ্যায় দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলল চন্দ্রগ্রহণ। পূর্ণগ্রাস গ্রহণের সাক্ষী ভারতের মাত্র কয়েকটি জায়গা হলেও, পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের অধিকাংশ প্রান্ত থেকে দেখা গেল মোহময় ‘রক্তচাঁদ’ (Blood Moon)।
কেন লাল হলো চাঁদ?
চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ পুরোপুরি অন্ধকার হয়ে যায় না, বরং তামাটে লাল রং ধারণ করে। বিজ্ঞানীদের মতে, সূর্যরশ্মি যখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে প্রতিসরিত হয়ে চাঁদের ওপর পড়ে, তখন নীল আলোক তরঙ্গ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের লাল আলোটি প্রতিসরিত হয়ে সরাসরি চাঁদের বুকে পৌঁছায়। এর ফলেই গ্রহণ চলাকালীন চাঁদকে গাঢ় কালচে লাল বা ‘রক্তচাঁদ’ দেখায়।
চন্দ্রগ্রহণের বিজ্ঞান
চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নেই; সূর্যের আলো প্রতিফলিত করেই সে উজ্জ্বল হয়। যখন সূর্য, পৃথিবী এবং চাঁদ একই সরলরেখায় চলে আসে এবং পৃথিবী ঠিক মাঝখানে অবস্থান করে, তখন পৃথিবীর ছায়া চাঁদের ওপর পড়ে। এই ছায়াচ্ছন্ন অবস্থাকেই বলা হয় চন্দ্রগ্রহণ।
পশ্চিমবঙ্গের কোথায় কতক্ষণ দেখা গেল?
মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ৩৩ মিনিট থেকে ৫টা ৪৪ মিনিটের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তের দিগন্তরেখায় চাঁদ উদিত হয়। যদিও সেই সময় পূর্ণগ্রাস পর্যায়টি প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল, তবুও রক্তিম চাঁদ দেখতে মুখিয়ে ছিলেন রাজ্যবাসী।
- কলকাতা: শহরে চন্দ্রোদয় হয় বিকেল ৫টা ৩৯ মিনিটে। প্রায় ১ ঘণ্টা ৯ মিনিট ধরে গ্রহণ দেখা গিয়েছে।
- কোচবিহার: সবচেয়ে বেশি সময় অর্থাৎ ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট ধরে গ্রহণের সাক্ষী ছিলেন উত্তরবঙ্গের এই জেলার মানুষ।
- দার্জিলিং ও মুর্শিদাবাদ: দুই জেলাতেই ১ ঘণ্টা ১০ মিনিটের বেশি সময় ধরে গ্রহণ স্থায়ী ছিল।
- মেদিনীপুর: বিকেল ৫টা ৪৪ মিনিটে চন্দ্রোদয়ের পর ১ ঘণ্টা ৪ মিনিট গ্রহণ দেখা গিয়েছে।
গ্রহণের সময়সূচি একনজরে
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত ছিল প্রচ্ছায়ার প্রভাব। সেই সময় চাঁদকে কিছুটা ম্লান বা মলিন দেখাচ্ছিল। এরপর ৬টা ৪৭ মিনিটে প্রচ্ছায়া থেকে বেরিয়ে ধীরে ধীরে উজ্জ্বল হতে শুরু করে পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ। সবশেষে সন্ধ্যা ৭টা ৫৩ মিনিটে উপচ্ছায়ার প্রভাব কাটিয়ে আকাশে পূর্ণিমার চেনা ছন্দে ফিরে আসে ঝলমলে চাঁদ।
পশ্চিমবঙ্গবাসী সরাসরি চাঁদের ভেতরে পৃথিবীর ছায়া প্রবেশ করতে না দেখলেও, ছায়া থেকে বেরিয়ে আসার প্রতিটি মুহূর্ত চাক্ষুষ করার সুযোগ পেয়েছেন। কুসংস্কার কাটিয়ে বহু মানুষ এদিন টেলিস্কোপ বা খালি চোখেই উপভোগ করেছেন এই মহাজাগতিক দৃশ্য।

