প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে এনডিএর বিশেষ বৈঠক, মোদীর হাতে ঝালমুড়ি তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে এনডিএর বিশেষ বৈঠক, মোদীর হাতে ঝালমুড়ি তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে টানা ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ) বুধবার দিল্লির ভারত মণ্ডপমে একটি বিশেষ বৈঠকের আয়োজন করে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে নতুন নজির স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত ওই বৈঠকে এক ব্যতিক্রমী মুহূর্তের সাক্ষী থাকেন উপস্থিত নেতারা। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজ হাতে ঝালমুড়ি তৈরি করে প্রধানমন্ত্রী মোদীর হাতে তুলে দেন।

প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও বৈঠকে ঝালমুড়ির স্বাদ গ্রহণ করেন। পরে সমাজমাধ্যমে সেই মুহূর্তের ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, “এনডিএ বৈঠকে টক, মশলাদার এবং মুচমুচে ঝালমুড়ি উপভোগ করলাম।”

ঘটনাটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারপর্বেও ঝালমুড়ি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছিল। গত ১৯ এপ্রিল ঝাড়গ্রামে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী সড়কপথে ফেরার সময় ঝাড়গ্রাম শহরের রাজ কলেজ মোড়ের কাছে একটি ঝালমুড়ির দোকানে থামেন। ‘চবনলাল স্পেশ্যাল ঝালমুড়ি’ নামের ওই দোকান থেকে ১০ টাকার ঝালমুড়ি কিনে খান তিনি। সেই ঘটনার পর রাতারাতি পরিচিতি পান দোকানের মালিক বিক্রমকুমার সাউ।

সম্প্রতি বিক্রমকুমার সাউ জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁর দোকানে ঝালমুড়ি খাওয়ার পর থেকেই তিনি বিভিন্ন ধরনের হুমকির মুখে পড়েছেন। তাঁর দাবি, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে টেক্সট মেসেজ এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে হুমকি আসছে। এ বিষয়ে ঝাড়গ্রাম থানায় অভিযোগ জানানোর পর তাঁর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এদিকে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বড় জয়ের পর এনডিএর এই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাতে তৈরি ঝালমুড়ি পরিবেশন রাজনৈতিক মহলেও আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৬ মে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন নরেন্দ্র মোদী। সেই থেকে টানা ৪,৩৯৯ দিন ‘নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি নতুন নজির গড়েছেন বলে দাবি করেছে বিজেপি। এই উপলক্ষে মঙ্গলবার থেকে দেশজুড়ে এক মাসব্যাপী প্রচারাভিযান শুরু করেছে এনডিএ।

বিজেপির দাবি, নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের মেয়াদের নিরিখে মোদী দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুকেও অতিক্রম করেছেন। দলের যুক্তি, নেহরু টানা ১৬ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকলেও ১৯৪৭ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত তিনি নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না। সেই সময়কাল বাদ দিলে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদীর ধারাবাহিক মেয়াদ এখন নেহরুর থেকেও দীর্ঘ।

প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজেও তাঁর ১২ বছরের শাসনকালকে ‘বিশ্বাস, বিকাশ ও জনকল্যাণের ১২ বছর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি লেখেন, “আমাদের সরকার গত ১২ বছরে বিশ্বাস, বিকাশ ও জনকল্যাণের প্রতি সমর্পিত থেকেছে। ১৪০ কোটি দেশবাসীর আশীর্বাদ এবং ‘রাষ্ট্রই প্রথম’-এর আদর্শকে সামনে রেখে তরুণ, মহিলা ও কৃষক সমাজের ক্ষমতায়নের জন্য নিরলসভাবে কাজ করা হয়েছে। পরিকাঠামো উন্নয়ন থেকে ডিজিটাল বিপ্লব— বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতের অগ্রগতি আজ বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। বিকশিত ভারতের লক্ষ্য পূরণে সেবা, সুশাসন ও সমৃদ্ধির পথে আমাদের যাত্রা অব্যাহত থাকবে।”

প্রধানমন্ত্রীর ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই বিশেষ বৈঠককে এনডিএ নেতৃত্ব আগামী দিনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মসূচির দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.