ভারতের ‘যুদ্ধপ্রস্তুতি’ নিয়ে উত্তাল পাক পার্লামেন্ট: শান্তির বার্তা দিয়েও ‘জল-সন্ত্রাস’ নিয়ে তোপ জারদারির

ভারতের ‘যুদ্ধপ্রস্তুতি’ নিয়ে উত্তাল পাক পার্লামেন্ট: শান্তির বার্তা দিয়েও ‘জল-সন্ত্রাস’ নিয়ে তোপ জারদারির

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রের উত্তাপের মধ্যেই এবার দক্ষিণ এশিয়ায় ঘনীভূত হচ্ছে যুদ্ধের মেঘ। সোমবার পাকিস্তানের পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে এক বিস্ফোরক দাবি করলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি। পাক পার্লামেন্টের উভয় কক্ষের সদস্যদের সামনে দাঁড়িয়ে পাকিস্তান পিপলস পার্টি (PPP) নেতা অভিযোগ করেন, ভারত নাকি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আরও এক যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আলোচনার টেবিলে আসার আহ্বান

পার্লামেন্টে নিজের বক্তৃতায় জারদারি নিজেকে শান্তির দূত হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, “ভারতের নেতারা বলছেন তাঁরা আরও একটি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আমি চিরকাল আঞ্চলিক শান্তির পক্ষে সওয়াল করেছি, তাই ভারতের এই যুদ্ধপ্রস্তুতিকে আমি অনুমোদন করি না।” ভারতকে উদ্দেশ্য করে তাঁর বার্তা, যুদ্ধের ময়দান ছেড়ে আলোচনার টেবিলে আসা উচিত, কারণ এটাই আঞ্চলিক নিরাপত্তার একমাত্র পথ।

‘জল-সন্ত্রাসবাদ’ ও সিন্ধু জলচুক্তি বিতর্ক

শান্তির বার্তার পাশাপাশি ভারতের কড়া সমালোচনা করতেও ছাড়েননি জারদারি। সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখায় ভারতের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে একে ‘জল-সন্ত্রাসবাদ’ (Water Terrorism) বলে অভিহিত করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, স্বাভাবিক জলপ্রবাহ রুখে দিয়ে ভারত রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে।

প্রেক্ষাপট: ‘অপারেশন সিঁদুর’ ও সীমান্ত সংঘাত

উল্লেখ্য, জারদারির এই মন্তব্যের নেপথ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা।

  • ২২ এপ্রিল: পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন প্রাণ হারান, যাতে পাকিস্তানি মদতপুষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠীর যোগসূত্র মেলে।
  • ৭ মে: এর পাল্টা জবাবে ভারত শুরু করে ‘অপারেশন সিঁদুর’। ভারতীয় সেনা পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ৬টি জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করে।
  • ১০ মে: উভয় পক্ষ সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলবে এবং ভবিষ্যতে যেকোনো জঙ্গি হামলার যোগ্য জবাব দেওয়া হবে।

আফগান সীমান্ত ও দ্বিমুখী চাপ

বর্তমানে আফগানিস্তানের তালিবান সরকারের সঙ্গেও পাকিস্তানের তীব্র সামরিক সংঘাত চলছে। সোমবার সেই প্রসঙ্গ টেনে জারদারি বলেন, “পাকিস্তানের পবিত্র ভূমিতে কোনো শক্তিকে ঢুকতে দেব না।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তালিবানকে হুঁশিয়ারি দিলেও প্রকারান্তরে তিনি ভারতকেও বার্তা দিতে চেয়েছেন। তবে কাবুলের সঙ্গে সংঘাত চলাকালীন কেন তিনি ভারতের সাথে যুদ্ধের আশঙ্কাপ্রকাশ করলেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।

নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত পাক প্রেসিডেন্টের এই দাবির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ভারতের কঠোর অবস্থানের পর পাকিস্তানের এই নমনীয় বনাম আক্রমণাত্মক অবস্থানকে আন্তর্জাতিক মহলে সহানুভূতি পাওয়ার কৌশল হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.