ইরানের বিমানবন্দরে ইজরায়েলি বিমান ধ্বংস: খামেনেইয়ের স্ত্রীর মৃত্যুতে সংঘাত চরমে

ইরানের বিমানবন্দরে ইজরায়েলি বিমান ধ্বংস: খামেনেইয়ের স্ত্রীর মৃত্যুতে সংঘাত চরমে

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে যুদ্ধের লেলিহান শিখা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সোমবার গভীর রাতে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বুশেহরের বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বিমানকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ধ্বংস করেছে ইজরায়েলি বায়ুসেনা। ওই বিমানে কোনো যাত্রী ছিলেন কি না, সে বিষয়ে ইরান এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না দিলেও, তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও বড় ধরনের হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

প্রেসিডেন্টের দপ্তরে হামলা ও পেজেশকিয়ানের ভাগ্য

ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাতে তেহরানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কার্যালয় এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের ভবনে দফায় দফায় হামলা চালানো হয়েছে। ইজরায়েলের দাবি, বাঙ্কার লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হলেও মঙ্গলবার সকালে ইরান সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান সম্পূর্ণ নিরাপদ ও অক্ষত রয়েছেন।

খামেনেই পরিবারের বিপর্যয়

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ‘অপারেশন লায়নস রোর’ এবং ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র মাধ্যমে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই নিহত হওয়ার পর এবার শোকের ছায়া তাঁর পরিবারে। ওই দিনের হামলায় গুরুতর জখম হয়েছিলেন খামেনেইয়ের স্ত্রী খোজাস্তেহ বাঘেরজ়াদেহ। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছে যে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার তাঁরও মৃত্যু হয়েছে।

যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি ও ক্ষয়ক্ষতি

ইরান ও ইজরায়েলের এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এখন আর কেবল দুই দেশের সীমান্তে সীমাবদ্ধ নেই:

  • ইরানের প্রত্যাঘাত: তেহরান কেবল তেল আভিভ নয়, বরং পশ্চিম এশিয়ায় ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহিসহ একাধিক প্রতিবেশী দেশে ক্ষেপণাস্ত্র হানা দিয়েছে ইরান।
  • মৃত্যুমিছিল: রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার দপ্তর এবং রেড ক্রিসেন্টের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩৭।
  • ইজরায়েলের দাবি: তেল আভিভ জানিয়েছে, ইরান তাদের দেশের মধ্যভাগে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যার ফলে বেশ কিছু নাগরিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ভারতের উদ্বেগ

পশ্চিম এশিয়ার এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ভারতসহ গোটা বিশ্ব চরম উদ্বেগে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিমধেই শান্তি ফেরাতে আলোচনার ডাক দিয়েছেন এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। নয়াদিল্লির প্রধান অগ্রাধিকার এখন ওই অঞ্চলে আটকে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.