মঙ্গলবার এক অপূর্ব মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী থাকল ভারত-সহ বিশ্বের একাংশ। ২০২৬ সালের প্রথম চন্দ্রগ্রহণে কলকাতার আকাশেও ধরা দিল মোহময় ‘রক্তচাঁদ’ (Blood Moon)। বিকেল থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৭টা ৫৩ মিনিটে উপচ্ছায়া থেকে চাঁদ বেরিয়ে আসার মাধ্যমে এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার সমাপ্তি ঘটে।
কলকাতার আকাশে ৯১ শতাংশ ‘রক্তচাঁদ’
কলকাতায় মঙ্গলবার চন্দ্রোদয় হয় বিকেল ৫টা ৩৮ মিনিট নাগাদ। সেই সময় পূর্ণগ্রাস পর্যায়টি প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকলেও শহরের আকাশ থেকে চাঁদের ৯১ শতাংশ গাঢ় লাল বা রক্তিম দেখা যায়। বাকি ৯ শতাংশ ছিল আবছা হলুদ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই লালচে ভাব কমতে থাকে এবং ৬টা ৪৭ মিনিটের পর থেকে চাঁদ পুনরায় উজ্জ্বল হতে শুরু করে।
কেন এই গ্রহণকে ‘কেঁচো চাঁদ’ বলা হয়?
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, মার্চের প্রথম পূর্ণিমার চাঁদকে ‘ওয়র্ম মুন’ (Worm Moon) বা ‘কেঁচো চাঁদ’ বলা হয়। উত্তর আমেরিকা ও কানাডায় এই সময়ে বরফ গলতে শুরু করলে মাটি থেকে কেঁচো বেরিয়ে আসে, যা পাখিদের প্রজননপূর্ব খাদ্য হিসেবে পরিচিত। এই প্রাচীন লোকগাথা থেকেই এই বিশেষ নামকরণ।
ভারতজুড়ে গ্রহণের চিত্র
ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গ্রহণের দৃশ্যমানতা ছিল ভিন্ন:
- পূর্ব ভারত: অসমের তিনসুকিয়া ও ডিগবয়ে বিকেল ৫টা ১৩ মিনিটে চাঁদ ওঠায় সেখানে পূর্ণগ্রাস দেখার সুযোগ ছিল সবচেয়ে বেশি। গুয়াহাটি থেকেও দেখা গিয়েছে স্পষ্ট রক্তচাঁদ।
- উত্তর ও দক্ষিণ ভারত: দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু এবং চেন্নাইয়ে সন্ধ্যা ৬টা ২০ থেকে ৬টা ২২ মিনিটের মধ্যে চাঁদ উদিত হয়। সেখানকার বাসিন্দারা প্রায় ২০ মিনিট ধরে এই বিরল দৃশ্যের সাক্ষী ছিলেন।
- পশ্চিমবঙ্গ: কোচবিহার, দার্জিলিং, মুর্শিদাবাদ এবং মেদিনীপুর থেকেও ৫টা ৩০ থেকে ৫টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে গ্রহণ দৃশ্যমান হয়।
কেন লাল দেখায় চাঁদ?
পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবী যখন সূর্য ও চাঁদের মাঝে চলে আসে, তখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে সূর্যের আলো প্রতিসরিত হয়ে চাঁদের ওপর পড়ে। বায়ুমণ্ডলে নীল আলো বিচ্ছুরিত হয়ে গেলেও লাল আলোটি চাঁদে পৌঁছাতে পারে, যার ফলে গ্রহণ চলাকালীন চাঁদ কালো না হয়ে গাঢ় লাল বর্ণ ধারণ করে।
[Image showing the sun, earth, and moon alignment during a total lunar eclipse]
গ্রহণের সময়সূচি একনজরে:
- প্রচ্ছায়া পর্যায়: সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত।
- উজ্জ্বল হওয়ার সূচনা: সন্ধ্যা ৬টা ৪৭ মিনিট।
- গ্রহণ সমাপ্তি (উপচ্ছায়া থেকে মুক্তি): সন্ধ্যা ৭টা ৫৩ মিনিট।
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রহণ কাটিয়ে পৃথিবীর উপগ্রহ এখন পূর্ণিমার নিজস্ব ছন্দে উজ্জ্বল ও নির্মল। আজকের এই মহাজাগতিক ঘটনাটি যেমন সাধারণ মানুষের কাছে ছিল বিস্ময়ের, তেমনই বিজ্ঞানীদের কাছেও ছিল গবেষণার অন্যতম বিষয়।

