২০২৭-এর মধ্যেই ভোলবদল ইডেনের: আসন সংখ্যা বেড়ে হচ্ছে ৮৫ হাজার, নকশা নিয়ে বড় ঘোষণা সিএবি-র

২০২৭-এর মধ্যেই ভোলবদল ইডেনের: আসন সংখ্যা বেড়ে হচ্ছে ৮৫ হাজার, নকশা নিয়ে বড় ঘোষণা সিএবি-র

ক্রিকেটের নন্দনকানন ইডেন গার্ডেন্সের মুকুটে যুক্ত হতে চলেছে নতুন পালক। আসন সংখ্যা বৃদ্ধি থেকে আধুনিকিকরণ— সব মিলিয়ে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই এক সম্পূর্ণ নতুন চেহারায় ধরা দিতে চলেছে এই ঐতিহাসিক স্টেডিয়াম। ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি)-এর পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইডেনের বর্তমান দর্শকাসন ৬৭ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৮৫ হাজার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মোদী স্টেডিয়ামের সঙ্গে টক্কর ও আধুনিকিকরণ

ইডেনের দর্শকাসন ১৮ হাজার বৃদ্ধি পেলে বড় ম্যাচের আয়োজক হিসেবে আমদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামের সঙ্গে জোরদার টক্কর দিতে পারবে কলকাতা। যদিও ১ লক্ষ ৩২ হাজার আসন নিয়ে আমদাবাদ এবং ১ লক্ষ আসন নিয়ে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড (MCG) বিশ্বতালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রাখবে, তবে ৮৫ হাজার আসন হলে ইডেন বিশ্বের প্রথম সারির স্টেডিয়ামগুলোর তালিকায় নিজেকে আরও মজবুত করবে।

সংস্কারের খুঁটিনাটি ও সময়সীমা

সিএবি ইতিমধ্যেই এই মহাপ্রকল্পের জন্য টেন্ডার বা দরপত্র আহ্বান করেছে। সংস্কারের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:

  • বাজেট: এই প্রকল্পের আনুমানিক খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা।
  • গ্যালারির পরিবর্তন: বি, সি, কে এবং এল ব্লক ও নতুন তৈরি হওয়া ক্লাব হাউস অক্ষত রাখা হবে। বাকি অংশের কাঠামো পরিবর্তন করে আসন সংখ্যা বাড়ানো হবে।
  • মাল্টি-পারপাস ব্যবহার: শুধু ক্রিকেট নয়, অন্যান্য খেলাধুলা এবং বড় অনুষ্ঠানের আয়োজনের উপযোগী করে একে ‘মাল্টি-পারপাস স্পোর্টস’ কমপ্লেক্স হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
  • সময়সীমা: এই বছরের আইপিএল শেষ হলেই কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাকে কাজ শুরুর ১৮ মাসের মধ্যে তা শেষ করতে হবে। অর্থাৎ, ২০২৭ সালের মধ্যেই নতুন ইডেন তৈরি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল।

দরপত্র প্রক্রিয়া ও শর্তাবলী

আগামী ১৪ মার্চের মধ্যে দরপত্র জমা দিতে হবে। ইসিবি জানিয়েছে, টেন্ডার প্রক্রিয়াটি দুটি ভাগে বিভক্ত— টেকনিক্যাল এবং ফিন্যান্সিয়াল। টেকনিক্যাল রাউন্ডে ৭০ নম্বরের মধ্যে অন্তত ৪৯ নম্বর পেলে তবেই আর্থিক প্রস্তাবটি বিবেচনা করা হবে। শর্তানুসারে, আবেদনকারী সংস্থাকে অন্তত ১০০ কোটি টাকার তিনটি অনুরূপ বড় প্রকল্প সম্পন্ন করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

ডুমুরজলায় ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স’

ইডেন সংস্কারের পাশাপাশি হাওড়ার ডুমুরজলায় একটি বিশ্বমানের ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স’ তৈরির পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করেছে সিএবি। ৮.৯৪ একর জমিতে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হবে এই কমপ্লেক্স।

ডুমুরজলা প্রকল্পের বিশেষ আকর্ষণ:

  • ৬টি ইনডোর পিচ এবং ১২টি আউটডোর পিচ।
  • ভিডিও অ্যানালিসিস রুম, স্পোর্টস সায়েন্স সেন্টার এবং রিহ্যাব রুম।
  • ২ হাজার দর্শকাসনের ফ্লাডলাইট সমৃদ্ধ মিনি স্টেডিয়াম।
  • খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের থাকার জন্য আধুনিক আবাসন ব্যবস্থা।

ইডেন এবং ডুমুরজলা— এই দুই মেগা প্রকল্প সম্পন্ন হলে বাংলার ক্রিকেট পরিকাঠামো যে এক লাফে অনেকটা এগিয়ে যাবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত ক্রীড়া মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.