মহিলাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জয়ের হ্যাটট্রিক অধরাই থেকে গেল ভারতের। ব্যাটিং ব্যর্থতা এবং মারিজান কাপের একক লড়াইয়ের ওপর ভর করে ভারতকে ৬ উইকেটে হারিয়ে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এই হারের ফলে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালের সমীকরণ কঠিন করে ফেললেন হরমনপ্রীত কৌরেরা। অন্যদিকে, এই জয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের টিকিয়ে রাখল দক্ষিণ আফ্রিকা।
সেমিফাইনালের জটিল সমীকরণ
এই ম্যাচ জিতলে সেমিফাইনালের পথে অনেকটাই এগিয়ে যেত ভারতীয় দল। কিন্তু হেরে যাওয়ায় গ্রুপ ‘এ’-র পয়েন্ট তালিকায় চাপ বাড়ল ভারতের। বর্তমানে ৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এরপর ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা ও বাংলাদেশ— তিনটি দলেরই ঝুলিতে রয়েছে ৩ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট। ফলে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে ভারতকে এখন বাকি দুটি ম্যাচেই জয়ের জন্য ঝাঁপাতে হবে।
আক্রমণাত্মক শুরুর পর মিডল অর্ডারের ধস
এর আগের দুই ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারত অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এর আগে ১৩০-এর বেশি রান ডিফেন্ড করে ভারত কখনও হারেনি। অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বোচ্চ রান তাড়া করার রেকর্ড ছিল ১৩৫। সেই পরিসংখ্যান মাথায় রেখেই প্রথমে ব্যাট করার কৌশল নেন হরমনপ্রীত।
শুরুটা ভারতের দুর্দান্ত হয়েছিল। দুই ওপেনার স্মৃতি মন্ধানা ও শেফালি বর্মা ওভার প্রতি ১০-এর বেশি রান তুলছিলেন। তবে এই জুটি বেশি দূর এগোয়নি। বল হাতে প্রথম আঘাত হানেন দক্ষিণ আফ্রিকার মারিজান কাপ; ১৭ রানের মাথায় বোল্ড করেন স্মৃতিকে। ১৫ বলে ৩১ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে শবনম ইসমাইলের বাউন্সারে আউট হন শেফালি।
এরপর ভারতের মিডল অর্ডার ব্যাটাররা ভালো শুরু পেলেও তা বড় রানে রূপান্তর করতে ব্যর্থ হন:
- যস্তিকা ভাটিয়া: ১৫ রান
- জেমাইমা রদ্রিগেজ়: ১২ রান
- হরমনপ্রীত কৌর: ২৪ রান
শেষের দিকে দীপ্তি শর্মা (২৯) ও রিচা ঘোষ (১৫) রান তোলার চেষ্টা করলেও দক্ষিণ আফ্রিকার মন্থর উইকেটের ফায়দা তোলেন প্রোটিয়া বোলাররা। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫৮ রান তোলে ভারত, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অন্তত ১০-১৫ রান কম ছিল।
কাপ-ব্রিটস জুটির পাল্টা লড়াই ও ভারতের হার
১৫৯ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে পাওয়ার প্লে-তে বেশ চাপে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ভারতীয় বোলার শ্রী চরণির দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে ২০ রানের মধ্যে অধিনায়ক লরা উলভার্ট এবং শূন্য রানে আনেরি ডার্কসেন প্যাভিলিয়নে ফেরেন।
তবে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন অভিজ্ঞ মারিজান কাপ এবং তাজ়মিন ব্রিটস। দুই ব্যাটার ভারতের স্পিন ও পেস আক্রমণ সামলে মাঝের ওভারগুলিতে ৯৭ রানের পার্টনারশিপ গড়েন। ব্রিটস ৪০ রানে আউট হলেও কাপকে টলাতে পারেননি ভারতীয় বোলাররা। শেষ দিকে নাদিন ডি’ক্লার্ক ও ক্লোয়ি ট্রিয়নকে সঙ্গী করে ৫ বল বাকি থাকতেই দলের জয় নিশ্চিত করেন কাপ। ৪৫ বলে ৮১ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন তিনি।
ভারতীয় বোলারদের মধ্যে একমাত্র শ্রী চরণি ৩ উইকেট নিয়ে নজর কাড়েন। তবে হতাশ করেন তারকা স্পিনার দীপ্তি শর্মা; ৪ ওভারে ৪৪ রান খরচ করায় ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে যায় ভারত।

