তামিলনাড়ুর তিরুভাল্লুর জেলায় একটি সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও রফতানি কারখানায় ভয়াবহ গ্যাস বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে। কারখানায় মজুত বিষাক্ত অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক হয়ে অন্তত দুই নারী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় আরও বহু শ্রমিকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৬৫ জন শ্রমিককে গুরুতর জখম ও অসুস্থ অবস্থায় স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।
পরিমাপক ভাল্ভ থেকে বিপর্যয়, ছড়াল আতঙ্ক
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তিরুভাল্লুর জেলার পেরিয়াপালায়ামের নিকটবর্তী কান্নিগাইপায়ার গ্রামে অবস্থিত একটি চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রাথমিক তদন্তের পর জানা গেছে, কারখানার গ্যাস লাইনের একটি পরিমাপক ভাল্ভ (Gauge Valve) ফেটে বা লিক হয়ে আচমকাই বিষাক্ত অ্যামোনিয়া গ্যাস চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার পর কারখানার ভেতরের বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যায়, গ্যাস ছড়িয়ে পড়তেই শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে শ্রমিকদের শ্বাসকষ্ট শুরু হয় এবং অনেকেই মাথা ঘোরা ও বমির মতো উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। দ্রুত ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুল্যান্স পৌঁছে অসুস্থদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
অসুস্থদের চিকিৎসায় তৎপর প্রশাসন
তিরুভাল্লুরের জেলাশাসক কবিতা জানিয়েছেন, গ্যাসে আক্রান্ত মোট ৬৭ জন শ্রমিককে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। জেলাশাসকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী:
- ভেলস হাসপাতাল: ৪৬ জন শ্রমিক এখানে চিকিৎসাধীন।
- ভেঙ্কটেশ্বর হাসপাতাল: ২১ জন শ্রমিককে এখানে ভর্তি করা হয়েছে।
- স্ট্যানলি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল: গুরুতর অসুস্থ ৯ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের দ্রুত চেন্নাইয়ের এই সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
কারখানা সূত্রে খবর, অসুস্থ ও আক্রান্ত শ্রমিকদের একটি বড় অংশই উত্তর ভারতসহ বিভিন্ন ভিন্রাজ্য থেকে তামিলনাড়ুতে কাজে এসেছিলেন।
শোকপ্রকাশ রাজ্যপালের, তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি
এই মর্মান্তিক শিল্প দুর্ঘটনায় গভীর দুঃখপ্রকাশ করেছেন তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকার। অন্যদিকে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ‘তলপতি’ বিজয় ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখে অবিলম্বে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে রয়েছেন: ১. শিল্প নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্য বিভাগের অধিকর্তা। ২. দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের সদস্য-সচিব। ৩. জনস্বাস্থ্য বিভাগের অতিরিক্ত অধিকর্তা।
মুখ্যমন্ত্রীর দফতর (CMO) থেকে কমিটিকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুর্ঘটনার কারণ ব্যাখ্যা করে একটি অন্তর্বর্তীকালীন রিপোর্ট এবং আগামী ৩ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, আহত শ্রমিকদের চিকিৎসায় যাতে কোনও ধরনের গাফিলতি না হয়, তা কঠোরভাবে তদারকি করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়।

