দীর্ঘ দূরত্বের ট্রেন সফরে অধিকাংশ যাত্রীর প্রধান দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায় ট্রেনের শৌচাগার ও সার্বিক পরিচ্ছন্নতা। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও পর্যাপ্ত জলের অভাবে বহু যাত্রী সফরে জল খাওয়া কমিয়ে দেন কিংবা দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাবের বেগ চেপে রাখেন। চিকিৎসকদের মতে, এই অভ্যাস শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। জল কম খেলে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি প্রস্রাব ঘন হয়ে মূত্রনালির সংক্রমণ (UTI)-এর ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, যাত্রা পথে নিয়মিত জল ও খাবার গ্রহণের পাশাপাশি কিছু সহজ সতর্কতা ও নিয়ম মেনে চললে সংক্রমণ এড়িয়ে সুস্থ থাকা সম্ভব:
- সাবান-কাগজ (Paper Soap) ও হাত ধোয়া: ট্রেনের শৌচাগার ব্যবহারের পর অবশ্যই সাবান-কাগজ বা লিকুইড সোপ দিয়ে ভালোভাবে ফেনা না হওয়া পর্যন্ত রগড়ে হাত ধুতে হবে।
- টিস্যু পেপারের ব্যবহার: শৌচাগার থেকে বের হওয়ার সময় ছিটকিনি বা হাতল স্পর্শ করার ক্ষেত্রে টিস্যু পেপার ব্যবহার করা সুবিধাজনক, যাতে পরিচ্ছন্ন হাত পুনরায় জীবাণুযুক্ত না হয়।
- ফ্লাশ ও জীবাণুনাশক স্প্রে: ব্যবহারের পূর্বে কমোড বা শৌচাগারে ভালোভাবে জল দিয়ে ফ্লাশ করে নেওয়া জরুরি। জীবাণুমুক্ত করতে সঙ্গে Toilet Seat Sanitizer বা ডিসইনফেক্ট্যান্ট স্প্রে ব্যবহার করা যেতে পারে।
- ঋতুস্রাবকালীন স্বাস্থ্যবিধি: যাত্রার সময় পর্যাপ্ত বাড়তি স্যানিটারি প্যাড বা ট্যাম্পন রাখা প্রয়োজন। ব্যবহৃত প্যাড কোনোভাবেই কমোডে না ফেলে প্লাস্টিকে মুড়ে নির্দিষ্ট বর্জ্য ফেলার পাত্রে ফেলা উচিত এবং পরিবর্তনের পূর্বে ও পরে ভালোভাবে হাত ধোয়া আবশ্যক।
- খাবারের পূর্বে স্যানিটাইজার: সফরের সময় কিছু খাওয়ার আগে সবসময় সাবান দিয়ে হাত ধোয়া উচিত। পর্যাপ্ত জল না থাকলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক।
- মুখে ও চোখে হাত দেওয়ার অভ্যাস ত্যাগ: ট্রেনে ভ্রমণকালে বারবার নখ কামড়ানো কিংবা চোখ ও মুখে অপরিচ্ছন্ন হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত, কারণ এর মাধ্যমে শরীরে দ্রুত সংক্রমণ ছড়াতে পারে।

