পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের তদন্তভার হাতে নিয়েই তৎপরতা শুরু করল সিবিআই। মঙ্গলবার দায়িত্ব নেওয়ার পর বুধবারই মধ্যমগ্রামের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। এর মধ্যেই ধৃতদের গ্রেফতারির পদ্ধতি নিয়ে রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে অভিযুক্তের পরিবার ও আইনজীবী।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে কেন্দ্রীয় দল
মঙ্গলবার রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর কাছ থেকে এই মামলার দায়িত্ব বুঝে নেয় সিবিআই। কেন্দ্রীয় সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কলকাতা জোনের যুগ্ম নির্দেশকের অধীনে একটি বিশেষ দল এই খুনের কিনারা করতে কাজ করবে। বুধবার সেই দলের সদস্যরা মধ্যমগ্রামে গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অপরাধের পুনর্নির্মাণ করেন।
অভিযুক্তের পরিবারের দাবি ও আইনি জট
এই ঘটনায় উত্তরপ্রদেশ ও বিহার থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করেছিল রাজ্য পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে অন্যতম উত্তরপ্রদেশের বালিয়ার বাসিন্দা রাজ সিং। রাজের মা জামবন্তী সিং এবং আইনজীবী হরিবংশ সিং সিবিআই তদন্তকে স্বাগত জানালেও রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।
আইনজীবীর অভিযোগ:
- রাজ সিংকে অযোধ্যা থেকে গ্রেফতার করা হলেও স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছ থেকে কোনো ট্রানজিট রিমান্ড নেওয়া হয়নি।
- আইনি নিয়ম লঙ্ঘন করে সরাসরি বিমানে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়েছে অভিযুক্তকে।
ধৃতের মায়ের বয়ান: জামবন্তী সিংয়ের দাবি, তাঁর ছেলেকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ৭ মে তাঁরা লখনউতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে ছিলেন এবং পরে অম্বেডকর নগরের একটি মাজারে যান। ৯ মে অযোধ্যা যাওয়ার পথে একটি ধাবা থেকে পুলিশ তাঁদের আটক করে। জামবন্তী সিং বলেন, “আমার ছেলে নির্দোষ, ওকে চক্রান্ত করে এই খুনের মামলায় জড়ানো হয়েছে।”
ফিরে দেখা: ৬ মে-র সেই অভিশপ্ত রাত
গত ৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামে চন্দ্রনাথ রথের গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। তদন্তে জানা গেছে:
- একটি চারচাকা গাড়ি চন্দ্রনাথের গাড়ির পথ আটকায়।
- দুটি বাইকে আসা দুষ্কৃতীরা দু’পাশ থেকে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে।
- ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় চন্দ্রনাথের। গুরুতর আহত অবস্থায় চালক এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
প্রশাসনিক তৎপরতা
রাজ্য পুলিশ প্রথমে এই মামলার তদন্তে ‘সিট’ গঠন করলেও পরবর্তীকালে তদন্তভার সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়। সিবিআই সূত্রে জানানো হয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র বা সুপারি কিলারদের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, অন্য একটি মামলায় প্রভাব খাটিয়ে তদন্ত বিঘ্নিত করার আশঙ্কায় প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুকে ১০ দিনের ইডি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সব মিলিয়ে রাজ্যের বর্তমান প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই হাই-প্রোফাইল খুনের মামলাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

