ভারত ছাড়ছেন অভিনেত্রী মন্দনা করিমি: কারণ হিসেবে তুলে ধরলেন ‘ক্ষোভ’ ও ‘সমর্থনের অভাব’

ভারত ছাড়ছেন অভিনেত্রী মন্দনা করিমি: কারণ হিসেবে তুলে ধরলেন ‘ক্ষোভ’ ও ‘সমর্থনের অভাব’

দীর্ঘ ১৬ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করে ভারত ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন ইরানি বংশোদ্ভূত বলিউড অভিনেত্রী মন্দনা করিমি। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ভারতে গত কয়েক মাসের অভিজ্ঞতায় তিনি ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ। তবে ভারত ছাড়লেও নিজের জন্মভূমি ইরানে এখনই ফিরছেন না তিনি।

১৬ বছরের ‘দ্বিতীয় বাড়ি’কে বিদায়

মাত্র ১৮ বছর বয়সে ইরান ছেড়ে ভারতে এসেছিলেন মন্দনা। বলিউডে ‘কেয়া কুল হ্যায় হাম ৩’, ‘ভাগ জনি’ বা ‘রয়’-এর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি রিয়ালিটি শো ‘বিগ বস’-এর মাধ্যমে তিনি জনপ্রিয়তা পান। মুম্বইকে নিজের দ্বিতীয় বাড়ি হিসেবেই মেনে নিয়েছিলেন এই অভিনেত্রী। কিন্তু সামাজিক মাধ্যমে এক অনুরাগীর প্রশ্নের উত্তরে তিনি আক্ষেপের সঙ্গে জানান, “কখনও দুঃস্বপ্নেও ভাবিনি যে এই শহর বা এই দেশ আমাকে ছাড়তে হবে।”

কেন এই আকস্মিক বিদায়?

মন্দনার এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত মতাদর্শগত সংঘাত। গত মার্চ মাসে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর ইরানি বংশোদ্ভূত এই অভিনেত্রী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ইরানে নিষিদ্ধ এবং গত এক দশক ধরে নিজ দেশে তাঁর প্রবেশাধিকার নেই।

ভারত ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মন্দনা বলেন:

“আমি ভারত ছাড়ছি কারণ গত কয়েক মাস ধরে আমি এখানে কোনও সমর্থন পাইনি। আমি ভারতের ওপর ক্ষুব্ধ। খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর দেখলাম ভারতে অনেকেই ইজ়রায়েল বা আমেরিকার প্রসঙ্গ টেনে মত প্রকাশ করছেন। এমনকি অনেকে রাস্তায় নেমে শোক পালন করছেন— যা আমি সমর্থন করতে পারছি না।”

গন্তব্য কোথায়?

ইরানে নতুন সরকার গঠিত হলেও মন্দনা সেখানে ফিরতে নারাজ। তিনি জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই তিনি নতুন আস্তানা খুঁজে পেয়েছেন। তবে কোন দেশে তিনি পাড়ি দিচ্ছেন, তা এখনই খোলসা করেননি তিনি। অনুরাগীদের ধারণা, জীবনকে নতুন করে শুরু করতে মন্দনা সম্ভবত ইংল্যান্ডকে বেছে নিচ্ছেন।

উল্লেখ্য, মন্দনা করমি বরাবরই ইরানে নারী অধিকার এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের পক্ষে সরব ছিলেন। নিজ দেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও প্রবাসে থেকে তিনি নিজের লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন। এবার প্রিয় মুম্বই শহর ছেড়ে তাঁর এই প্রস্থান বিনোদন জগতে বেশ আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.