শব্দদূষণ রোধে কড়া পদক্ষেপ: ধর্মীয় স্থানে লাউডস্পিকার ও রাস্তা অবরোধ নিয়ে প্রশাসনের বিশেষ নির্দেশিকা

শব্দদূষণ রোধে কড়া পদক্ষেপ: ধর্মীয় স্থানে লাউডস্পিকার ও রাস্তা অবরোধ নিয়ে প্রশাসনের বিশেষ নির্দেশিকা

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে উত্তরপ্রদেশের ধাঁচেই এবার কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ধর্মীয় স্থানগুলোতে লাউডস্পিকারের যথেচ্ছ ব্যবহার এবং রাস্তা অবরোধ নিয়ে পুলিশ প্রশাসনকে স্পষ্ট নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি নির্দেশ দেন যে, উৎসবের মরসুম ব্যতীত অন্য সময়ে মাইকের আওয়াজ যেন কোনওভাবেই নির্দিষ্ট সীমার বাইরে না যায়।


মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ: শব্দসীমা ও সামাজিক ভারসাম্য

নবান্ন সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন যে ধর্মীয় স্থানে লাউডস্পিকার ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত শব্দের মাত্রা (Sound Limit) কঠোরভাবে বজায় রাখতে হবে। তাঁর মতে:

  • উৎসব বনাম সাধারণ দিন: দুর্গাপূজা, ঈদ বা বিশেষ বড় উৎসব ব্যতীত সাধারণ দিনে মাইকের শব্দ যেন কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চত্বরের বাইরে না যায়।
  • জনস্বার্থ: প্রতিদিন উচ্চস্বরে মাইক বাজানোর ফলে সংলগ্ন এলাকার মানুষ, বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও রোগীদের যে অসুবিধা হয়, তা বন্ধ করতে হবে।
  • সহমর্মিতা: তবে মাইকের আওয়াজ কমানোর ক্ষেত্রে পুলিশকে ‘জোর-জবরদস্তি’ না করে সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি বুঝিয়ে করার পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

অযথা রাস্তা বন্ধে নিষেধাজ্ঞা

জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের কারণে যেন সাধারণ রাস্তা অযথা বন্ধ না করা হয়। যানজট মুক্ত শহর ও মানুষের ভোগান্তি কমাতে পুলিশকে এই বিষয়ে কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


‘যোগী মডেল’-এর সঙ্গে সাদৃশ্য

প্রশাসনিক মহলের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর এই সিদ্ধান্ত উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের গৃহীত ব্যবস্থার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। উত্তরপ্রদেশেও অবৈধ লাউডস্পিকার খুলে ফেলা এবং নির্দিষ্ট ডেসিবেলের মধ্যে শব্দসীমা রাখার নির্দেশিকা বলবৎ রয়েছে। বাংলাতেও এবার সেই একই ধাঁচে নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখতে চাইছে রাজ্য সরকার।


ধর্মীয় নেতাদের সমর্থন

সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ।

  • নাসির ইব্রাহিম (ট্রাস্টি, নাখোদা মসজিদ): তিনি বলেন, “আইন মান্যকারী নাগরিক হিসেবে আমরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছি। ধর্মীয় কারণে কখনও রাস্তা অবরুদ্ধ হওয়া উচিত নয়।”
  • জয়ন্ত কুশারী (প্রিন্সিপাল, অল ইন্ডিয়া ওরিয়েন্টাল অ্যাকাডেমি): তাঁর মতে, “প্রার্থনা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়। কোনও ধর্মগ্রন্থেই লাউডস্পিকারের কথা বলা নেই। জনস্বার্থ ও অন্যের অধিকারের প্রতি সম্মান রেখেই ধর্ম পালন করা উচিত।”

প্রশাসনের এই নতুন কড়াকড়ির ফলে রাজ্যে শব্দদূষণ পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা লাঘব হবে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.