শনিবার রাতে মৃদু ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল উত্তরবঙ্গ ও সিকিমের বিস্তীর্ণ এলাকা। রাত পৌনে ৯টা নাগাদ অনুভূত এই কম্পনের উৎসস্থল ছিল প্রতিবেশী রাজ্য সিকিমের মঙ্গন। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.১। তবে স্বস্তির খবর এই যে, কম্পন অনুভূত হলেও এখনও পর্যন্ত কোথাও কোনও বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি।
কম্পনের উৎস ও প্রভাব
ভারতের ভূমিকম্প জরিপকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার গভীরে ছিল এই কম্পনের উৎসস্থল। এর প্রভাবে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকা— দার্জিলিং, কালিম্পং ও কার্শিয়াং মৃদু দুলে ওঠে। সমতলের শিলিগুড়ি এবং জলপাইগুড়ির কিছু অংশেও আতঙ্কিত মানুষ ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। এই কম্পন প্রতিবেশী দেশ নেপাল ও ভুটানের কিছু অংশেও টের পাওয়া গিয়েছে।
উল্লেখ্য, শনিবার সারাদিন ধরেই হিমালয় সংলগ্ন অঞ্চলে ভূ-স্তরে অস্থিরতা লক্ষ্য করা গিয়েছে:
- সকাল: নেপালের পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় ৩.৩ মাত্রার কম্পন।
- দুপুর: অসমের কোকরাঝাড়ে ২.১ মাত্রার মৃদু কম্পন।
সিকিমে ধসের পূর্বাভাস: পর্যটকদের জন্য সতর্কতা
ভূমিকম্পের রেশ কাটতে না কাটতেই সিকিমে নতুন বিপদ ঘনীভূত হচ্ছে। ডিআরডিও (DRDO)-র অধীনস্থ সংস্থা ‘ডিফেন্স জিওইনফরমেটিক রিসার্চ এস্টাব্লিশমেন্ট’ আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমগ্র সিকিমে ভয়াবহ তুষারধসের (Avalanche) পূর্বাভাস দিয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি:
- ভারী তুষারপাত: গত কয়েকদিন ধরে উত্তর ও পূর্ব সিকিমে লাগাতার তুষারপাত চলছে। সান্দাকফু-সহ সিকিমের বিস্তীর্ণ এলাকা প্রায় ৬ ইঞ্চি বরফের চাদরে ঢাকা পড়েছে।
- যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন: লাচেন থেকে থাঙ্গু এবং থাঙ্গু থেকে গুরুদোংমার যাওয়ার রাস্তা বরফে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
- উদ্ধারকাজ: আটকে পড়া শতাধিক পর্যটককে সুরক্ষিত রাখতে এবং রাস্তা পরিষ্কার করতে সামরিক বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছে।
প্রশাসনের নির্দেশিকা
ভূমিকম্প এবং পরবর্তী তুষারধসের আশঙ্কায় পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলেছে প্রশাসন। বিশেষ করে পাহাড়ি ঢালু এলাকায় যাতায়াত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি চললেও উত্তরবঙ্গ ও সিকিমে তুষারপাত ও ধসের জোড়া ফলায় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

