‘ছ’মাসে দিল্লি দুর্বল হয়েছে, শক্তি বেড়েছে পাকিস্তানের, ফের হতে পারে যুদ্ধ!’ আবার উস্কানিমূলক মন্তব্য পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

‘ছ’মাসে দিল্লি দুর্বল হয়েছে, শক্তি বেড়েছে পাকিস্তানের, ফের হতে পারে যুদ্ধ!’ আবার উস্কানিমূলক মন্তব্য পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

গত ছ’মাসে পাকিস্তান শক্তিশালী হয়েছে। আগের চেয়ে শক্তি কমেছে ভারতের। এমনটাই দাবি করলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। ভারত সম্পর্কে ফের উস্কানিমূলক মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছেন তিনি। দাবি, দুই দেশের মধ্যে পুনরায় যুদ্ধ বাধতে পারে। সেই সম্ভাবনা যথেষ্ট ‘বাস্তব’। যদি আবার যুদ্ধ বাধে, পাকিস্তান আগের চেয়ে ভাল ফল করবে বলে তিনি আশাবাদী। সংবাদ সংস্থা পিটিআই এই খবর জানিয়েছে।

কেন দিল্লির শক্তি কমেছে বলে মনে করছেন আসিফ? মঙ্গলবার পাকিস্তানি চ্যানেল সামা টিভিকে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘‘ভারতের সঙ্গে আবার যুদ্ধের সম্ভাবনা অত্যন্ত বাস্তব। আমি কোনও উত্তেজনা চাই না। তবে ঝুঁকি রয়েছে। সেটা অস্বীকার করব না। যদি যুদ্ধ হয়, ঈশ্বরের কৃপায় আমরা আগের চেয়ে ভাল ফল পাব।’’

পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দাবি, গত ছ’মাসে পাকিস্তানের সমর্থক এবং বন্ধু দেশের সংখ্যা আগের চেয়ে বেড়েছে। মে মাসের সংঘর্ষের পর যারা ভারতের পাশে ছিল, তাদের সমর্থনও হারিয়েছে নয়াদিল্লি। এই বক্তব্যের সপক্ষে কোনও দেশের নাম অবশ্য উল্লেখ করতে পারেননি আসিফ। বরং ভারতের ইতিহাস টেনে অবাস্তব দাবি করেছেন। মুঘল সম্রাট ঔরঙ্গজ়েবের অধীনের কয়েক বছর ছাড়া ভারত কখনও ঐক্যবদ্ধ হতে পারেনি বলে তিনি দাবি করেছেন।

সম্প্রতি সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার অভিযোগে পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ভারতের স্থলসেনা প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। জানিয়েছিলেন, যদি পৃথিবীর মানচিত্রে থাকতে হয়, তবে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া বন্ধ করতে হবে পাকিস্তানকে। গত শুক্রবার ভারতের বায়ুসেনা প্রধান এপি সিংহ আবার বলেছেন, অপারেশন সিঁদুরে আমেরিকায় তৈরি এফ-১৬-সহ পাকিস্তানের এক ডজন যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে ভারতীয় সেনা। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহও ইসলামাবাদকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, নাগরিকদের সুরক্ষার স্বার্থে যে কোনও সময়ে পাকিস্তানে ঢুকে যেতে পারে ভারতীয় সেনা। ভারত থেকে এই সমস্ত মন্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রশ্ন করা হলে পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী শক্তি হ্রাসবৃদ্ধি নিয়ে নতুন দাবি করেছেন।

গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পরে পাকিস্তানকে দায়ী করে একাধিক পদক্ষেপ করেছিল ভারত। ৬ মে মধ্যরাতে পাকিস্তানে সেনা অভিযান চালানো হয়। একাধিক পাক জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করে ভারতীয় সেনা। এর পর টানা চার দিন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষ চলেছে। ১০ মে দুই দেশ সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হয়। কিন্তু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এখনও তলানিতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.