পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে সামান্য দেরি হওয়ায় এক কলেজ ছাত্রকে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীর সপাটে চড় মারার গুরুতর অভিযোগ উঠল খাস কলকাতায়। ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে তীব্রভাবে ভাইরাল হওয়ার পর ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ওই ছাত্রের দাবি, পরীক্ষা শেষে তিনি এই হেনস্থার বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের করতে গেলে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করে দুঃখপ্রকাশ করেন।
সম্মিলনী কলেজের গেটে তুলকালাম
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্ত ছাত্রের নাম সমীর আলি। কসবার বাসিন্দা সমীর বাণিজ্য বিভাগের প্রথম বর্ষের (১ম সেমিস্টার) ছাত্র। সার্ভে পার্ক এলাকার সম্মিলনী মহাবিদ্যালয়ে তাঁর সিট পড়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, সকাল ১১টায় পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা এবং পরীক্ষার্থীদের অন্তত ১৫ মিনিট আগে অর্থাৎ পৌনে ১১টার মধ্যে কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করা বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু সোমবার সমীর যখন সম্মিলনী কলেজে পৌঁছান, তখন ঘড়িতে বেলা ১১টা বেজে ১৫ মিনিট।
অভিযোগ, পরীক্ষা শুরু হয়ে যাওয়ায় কলেজে কর্তব্যরত এক পুলিশ আধিকারিক সমীরকে ভেতরে ঢুকতে বাধা দেন। প্রথম বর্ষের ওই ছাত্রটি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ ও কাকুতি-মিনতি করলেও ওই পুলিশকর্মী তা শুনতে রাজি হননি, উলটে সমীরকে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে কর্তব্যরত ওই পুলিশ আধিকারিক ছাত্রটিকে সপাটে একটি চড় মারেন বলে অভিযোগ।
ঘটনার ভিডিও ভাইরাল, শেষপর্যন্ত পরীক্ষা দিলেন সমীর
পুলিশকর্মীর চড় মারার এই অনভিপ্রেত দৃশ্যটি পাশ থেকে কেউ একজন মোবাইল ক্যামেরায় বন্দি করেন, যা পরবর্তীতে কলকাতা পুলিশকে ট্যাগ করে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা হলে মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনরা একজন পরীক্ষার্থীর সঙ্গে পুলিশের এমন হিংসাত্মক আচরণের তীব্র নিন্দা জানান।
অবশ্য পরবর্তীতে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও উপস্থিত অন্যান্যদের হস্তক্ষেপে সমীরকে পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয় এবং তিনি শেষপর্যন্ত তাঁর প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পেরেছেন বলে জানা গেছে।
প্রশ্নের মুখে কলকাতা পুলিশের একাংশের আচরণ
সাম্প্রতিক সময়ে কলকাতা পুলিশের কর্মীদের বিরুদ্ধে এই ধরনের ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক আচরণের অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও কসবা থানা এলাকায় কলকাতা পুলিশেরই এক কর্মীর বিরুদ্ধে বাড়ির পরিচারিকাকে শ্লীলতাহানি করার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছিল।
সোনারপুরের বাসিন্দা ওই পরিচারিকার অভিযোগ ছিল, কসবার ওই পুলিশকর্মীর বাড়িতে রান্নার কাজ করতে গেলে ফাঁকা বাড়ির সুযোগ নিয়ে ওই পুলিশকর্মী পিছন থেকে তাঁকে জড়িয়ে ধরে সম্মানহানির চেষ্টা করেন। মহিলা প্রতিবাদ করলে উলটে তাঁকে চোর অপবাদ দেওয়া হয় এবং ভয় দেখিয়ে একটি সাদা কাগজে জোরপূর্বক সই লিখিয়ে নেওয়া হয়। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সার্ভে পার্কে এক ছাত্রকে প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনায় কলকাতা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

