বিয়েবাড়ির আনন্দ মুহূর্তের মধ্যেই বদলে গেল মহাশ্মশানের স্তব্ধতায়। একটি দ্রুতগতির কন্টেনার ট্রাকের ধাক্কায় রাস্তা থেকে ছিটকে গেল বরযাত্রী বোঝাই গাড়ি। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই জোরালো ছিল যে, বরযাত্রীর গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে লোহার দলা পাকিয়ে যায় এবং যাত্রীরা দূর-দূরান্তে ছিটকে পড়েন। মহারাষ্ট্রের পালঘর জেলার অন্তর্গত মুম্বই-আহমেদাবাদ হাইওয়েতে ঘটা এই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আরও ৩৫ জনেরও বেশি মানুষ।
ডাহানু থেকে ধানিবারি যাওয়ার পথেই বিপর্যয়
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পালঘরের ডাহানুর বাপু গ্রাম থেকে একটি বরযাত্রী দল বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য ধানিবারির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। যাত্রাপথে, মুম্বই-আহমেদাবাদ হাইওয়ের পালঘর জেলার কাসা এলাকার ধানিবারি গ্রামের কাছে পৌঁছালে এই মারাত্মক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
ঘটনার সময় গুজরাট থেকে মুম্বইগামী একটি অতি দ্রুতগতির কন্টেনার ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বরযাত্রীবোঝাই গাড়িটিকে সজোরে ধাক্কা মারে। ধাক্কার অভিঘাতে দুটি গাড়িই হাইওয়ের ওপর উল্টে যায় এবং বরযাত্রীর গাড়িটি রাস্তা থেকে ছিটকে নিচে পড়ে যায়। গাড়ির ভেতরেই আটকে পড়েন বহু আরোহী।
উদ্ধারকাজে স্থানীয় বাসিন্দারা, যাত্রী সংখ্যা নিয়ে সংশয়
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ওই বরযাত্রীর গাড়িটিতে কমপক্ষে ৪০ জন যাত্রী ছিলেন। তবে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গাড়ির ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি যাত্রী তোলা হয়েছিল সেখানে।
দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনেই ছুটে আসেন ধানিবারি গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোর আগেই তাঁরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া গাড়ির ভেতর থেকে এবং উল্টে যাওয়া গাড়ির নিচ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় আহত ও নিহতদের বের করে আনা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল মিলিয়ে মোট ১২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া আহত ৩৫ জনেরও বেশি মানুষকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
তদন্তে গতি ও অতিরিক্ত যাত্রীর প্রশ্ন, হাইওয়েতে দীর্ঘ যানজট
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, কন্টেনার ট্রাকটির অতিরিক্ত গতি এবং অসাবধানতার কারণেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। তবে এর পাশাপাশি বরযাত্রীবোঝাই গাড়িটিতে অনুমোদিত ক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী তোলার ফলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
এই ভয়ংকর দুর্ঘটনার জেরে অত্যন্ত ব্যস্ত মুম্বই-আহমেদাবাদ হাইওয়েতে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল সম্পূর্ণ ব্যাহত হয়। তৈরি হয় মাইলের পর মাইল দীর্ঘ যানজট। পরবর্তীতে পুলিশ ক্রেন এনে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটিকে রাস্তা থেকে সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে একটি উচ্চপর্যায়ের বিস্তারিত তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

