পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে নয়াদিল্লি অবিলম্বে সংঘাত থামিয়ে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ডাক দিয়েছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই মঙ্গলবার ওমান ও কুয়েতের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মূলত ওই অঞ্চলে বসবাসকারী প্রায় এক কোটি ভারতীয়র নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন ভারত সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আলোচনা
পিটিআই (PTI) সূত্রে খবর, মঙ্গলবার ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিক এবং কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবা আল-খালেদ আল-হামাদ আল-মুবারক আল-সাবাহর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। দুই দেশেই মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকায় ইরানের প্রত্যাঘাতের মুখে পড়েছে তারা। প্রধানমন্ত্রী মোদী সেই হামলার প্রেক্ষিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
- এর আগে গত দু’দিনে তিনি বাহরিনের রাজা, সৌদি আরবের যুবরাজ, জর্ডনের রাজা এবং ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও কথা বলে সংঘাতের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
বিদেশ মন্ত্রকের কড়া অবস্থান ও উদ্বেগ
মঙ্গলবার বিদেশ মন্ত্রক একটি বিশেষ বিবৃতি জারি করে জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যে সংঘাত শুরু হয়েছে, তা নিয়ে ভারত ‘ভীষণ উদ্বিগ্ন’। বিবৃতির মূল পয়েন্টগুলি হলো:
- সংযমের আর্জি: উভয় পক্ষকেই চরম সংযম দেখানোর অনুরোধ জানিয়েছে ভারত।
- রমজানের পবিত্রতা: বিবৃতিতে দুঃখ প্রকাশ করে বলা হয়েছে যে, পবিত্র রমজান মাসেই এই অঞ্চলের পরিস্থিতি দ্রুত এবং উল্লেখযোগ্যভাবে খারাপ হচ্ছে।
- আঞ্চলিক নিরাপত্তা: সংঘাত শুধু তীব্র হয়নি, বরং প্রতিবেশী দেশগুলিতেও ছড়িয়ে পড়েছে, যা স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে পঙ্গু করে দিচ্ছে।
ভারতীয়দের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক প্রভাব
ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, পশ্চিম এশিয়ার স্থিতাবস্থার ওপর ভারতের জাতীয় স্বার্থ অনেকাংশে নির্ভরশীল। ১. নাগরিকদের সুরক্ষা: উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় এক কোটি ভারতীয় কাজ করেন। সাম্প্রতিক হামলায় বেশ কিছু ভারতীয়র মৃত্যু হয়েছে এবং কয়েক জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। তাঁদের নিরাপত্তাই এখন অগ্রাধিকার। ২. জ্বালানি ও বাণিজ্য: ওই অঞ্চল থেকেই ভারতের শক্তির জোগান (তেল ও গ্যাস) আসে। সেখানে ব্যাঘাত ঘটলে ভারতের অর্থনীতিতে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বাণিজ্যিক জাহাজে হামলারও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
দূতাবাসের সক্রিয়তা ও উদ্ধারকাজ
বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, আক্রান্ত দেশগুলিতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস ও উপদূতাবাসগুলো প্রতিনিয়ত নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। নিয়মিত নির্দেশিকা (Advisory) জারি করা হচ্ছে এবং যুদ্ধের কারণে আটকে পড়া ভারতীয়দের সব রকম সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর নিরবচ্ছিন্নভাবে আন্তর্জাতিক স্তরে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

