বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনার অবসান ঘটালেন নবনির্বাচিত সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী তথা বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, শেখ হাসিনার দলের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা বহাল থাকবে। আপাতত এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।
‘জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে’
ঢাকার গুলশানে একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আছে। বন্ধ আছে এবং বন্ধই থাকবে। তারা মাঝেমধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু তাদের খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।’’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘আওয়ামী লীগ কিছু কাজ করার চেষ্টা করছে ঠিকই, কিন্তু তাতে কোনো লাভ হচ্ছে না। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ তাদের পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন রাজনীতিকে রাজনীতির মতো এবং গণতন্ত্রকে গণতন্ত্রের পথে চলতে দেওয়া উচিত।’’
প্রেক্ষাপট: গণঅভ্যুত্থান ও ক্ষমতার পরিবর্তন
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন। পরবর্তীকালে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক চিত্র:
- সাধারণ নির্বাচন: আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় গত মাসের সাধারণ নির্বাচনে তারা অংশগ্রহণ করতে পারেনি।
- নতুন সরকার: নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন তারেক রহমান।
- ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক: তারেক রহমান ক্ষমতায় আসার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁকে ইদের শুভেচ্ছা জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন।
ভারত ও হাসিনা প্রসঙ্গ
শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবিতে ঢাকা থেকে নয়াদিল্লিকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। তারেক সরকার ক্ষমতায় আসার পর হাসিনা এবং তাঁর দল সম্পর্কে কী অবস্থান নেয়, সেদিকে নজর ছিল আন্তর্জাতিক মহলের। যদিও দেশের কোথাও কোথাও আওয়ামী লীগের কার্যালয় খুলে দেওয়ার মতো কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছিল, তবে মির্জা ফখরুলের এদিনের মন্তব্য সরকারের কঠোর অবস্থানকেই পুনর্ব্যক্ত করল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার আপাতত আওয়ামী লীগকে কোনোভাবেই রাজনৈতিক পরিসরে জায়গা দিতে নারাজ। ফখরুলের বক্তব্য অনুযায়ী, বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলোকে বড় করে না দেখে স্থিতিশীল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দিকেই মন দিতে চায় বর্তমান প্রশাসন।

