পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের ২০তম দিন: মাক্রোঁ-সহ তিন রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে মোদীর জরুরি বৈঠক, নিশানায় ইরান

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের ২০তম দিন: মাক্রোঁ-সহ তিন রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে মোদীর জরুরি বৈঠক, নিশানায় ইরান

ইরান, আমেরিকা ও ইজরায়েলের ত্রিদেশীয় সংঘাতের জেরে পশ্চিম এশিয়ায় ঘনিয়ে আসা যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরাসরি ময়দানে নামলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যুদ্ধের ২০তম দিনে দাঁড়িয়ে বিশ্বের তিন প্রভাবশালী রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে টেলিফোনে দীর্ঘ আলোচনা করলেন তিনি। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের সঙ্গে এই কথোপকথনে মূলত হরমুজ প্রণালীতে নৌ-পরিবহণ স্বাভাবিক করা এবং প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

মাক্রোঁর সঙ্গে ‘শান্তি ও কূটনীতি’র বার্তা

গত ফেব্রুয়ারি মাসে ভারত সফরে আসা ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর সঙ্গে আলোচনার পর প্রধানমন্ত্রী মোদী সামাজিক মাধ্যমে তাঁর ‘প্রিয় বন্ধু’র বার্তার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা প্রশমনে আলোচনা ও কূটনীতির পথে ফেরার বিষয়ে দু’জনেই একমত হয়েছেন। আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক স্তরে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভারত ও ফ্রান্স নিরন্তর সমন্বয় বজায় রাখবে বলে জানান তিনি।


মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা ও উদ্বেগ বিনিময়

আসন্ন ইদ-উল-ফিতর উপলক্ষে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং সে দেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার ‘গভীর উদ্বেগজনক’ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন মোদী। দুই রাষ্ট্রপ্রধানই মনে করেন, দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য সামরিক সংঘাত কমিয়ে আলোচনার টেবিলে ফেরা জরুরি।


ওমানের সুলতানের সঙ্গে আলোচনা: ইরানকে পরোক্ষ বার্তা

যুদ্ধের আবহে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ছিল ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের সঙ্গে মোদীর কথোপকথন। একদিকে যেমন ওমানের জনগণকে ইদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, তেমনই নাম না করে ইরানের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

  • সার্বভৌমত্ব রক্ষা: ওমানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা করেছেন মোদী।
  • নাগরিক সুরক্ষা: যুদ্ধকবলিত এলাকা থেকে ভারতীয় নাগরিক-সহ হাজার হাজার মানুষের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে ওমানের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।
  • নৌ-চলাচল: ভারত ও ওমান উভয় দেশই চায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল যেন অবিলম্বে ‘নিরাপদ ও অবাধ’ করা হয়।

কেন চিন্তিত নয়াদিল্লি?

পশ্চিম এশিয়ায় কয়েক লক্ষ ভারতীয় কর্মরত। হরমুজ প্রণালীতে ইরানের অবরোধের ফলে তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই ধারাবাহিক ‘টেলিফোনিক কূটনীতি’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.